চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত ২০১০ এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ক্রিকেট। মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল প্রথম আসরেরই সোনা জিতে বাজিমাত করেন। নিজেদের জেতা সেই সোনার পদকটি বাংলাদেশ এবার ইনচিয়ন গেমসেও ধরে রাখতে মরীয়া। সে জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের একেবারে কাছাকাছি যোগ্যতার একটি দল পাঠাতে চায়। সেজন্য মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে এশিয়াডগামী দলে জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকর রহিম ছাড়া সবাইকেই রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মনোভাব বদলের কারণে বিসিবি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সাকিব আল হাসানকেও কোরিয়া পাঠাতে পারে।
বিসিবি সভাপতি নামজুল হাসান পাপন নিজেই ক’দিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিষেধাজ্ঞা কাটাতে থাকা সাকিবের শাস্তি কমানো হবে এবং তাকে এশিয়াডেও পাঠানোর সম্ভাবনা আছে। এদিকে নির্বাচকরা এশিয়াডের জন্য ১৫ সদস্যের দল তৈরি করে ফেললেও নিষিদ্ধ থাকায় তাতে সাকিবের নাম নেই। এখন সাকিবকে এই দলে অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে ১৫ আগস্টের আগেই বোর্ডকে একটি সভা করে তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। সূত্রের ভাষ্যমতে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সাকিব ও এশিয়াড বিষয়ক এই ব্যাপারটি সমাধান করতে বিশেষ বৈঠকে বসবে বিসিবি।
গত এশিয়াডের ফাইনালে আফগানদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই আফগানিস্তান, নেপাল, দ. কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কা আছে গেমসে। উল্লেখ্য, গতবারের মেয়েদের রানার্স আপ বাংলাদেশ মহিলা দল এবারও অংশ নিচ্ছে এশিয়াডে।
বিসিবির একটি সূত্র জানালো যে এশিয়াডের জন্য নির্বাচকরা ১৫ সদস্যের দল প্রস্তাব করে তাদের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছে। সে দলে বিয়ের জন্য ছুটি চাওয়া মুশফিকুর রহিম ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা তারকারা প্রায় সবাই-ই আছেন। আছেন তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, সামসুর রহমান, এনামুল হক বিজয়, আব্দুর রাজ্জাক, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদরা। অধিনায়ক নির্বাচন করা নির্বাচকদের কাজ নয়। তবে সেটির ক্ষেত্রে বিসিবির পছন্দ মাশরাফিকেই।
এখন নির্বাচকরা ও বিসিবি সবাই-ই চাচ্ছেন এশিয়াডে সেরা দলটা পাঠাতে। যদিও এ নিয়ে একটা মৃদু গুঞ্জন আছে যে—ভারত, পাকিস্তান যেখানে দলই পাঠাচ্ছে না, সেখানে আমরা টেস্ট খেলুড়ে দেশ হয়ে সেরা দল কেন পাঠাবো? তবে বিসিবির ব্যাখ্যা পরিষ্কার—ভারত ও পাকিস্তান দল পাঠাচ্ছে না তাদের বিভিন্ন নীতির কারণে। আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করবো না কেন?
সেই চেষ্টা থেকে এই সেরা দল গঠনের ক্ষেত্রে সাকিবকে বেশ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে সভাপতি নিজে যখন বলেছেন, প্রিমিয়ার লিগ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিব খেলবেন, এশিয়াডেও খেলার সুযোগ আছে; তখন তাকে দলে রেখে নিজেদের সম্ভাবনা কেন বাড়ানো হবে না।
এই সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য সাকিবকে দলে ঢোকানোর জন্য সময় অবশ্য খুব বেশি নেই। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে গেমস কমিটির কাছে সব ক্রীড়ার চূড়ান্ত স্কোয়াড পাঠাতে হবে; এরপরও অবশ্য ইনজুরির কারণে দলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে সে ঝুঁকি বিসিবি নিতে চায় না।
বিওএ’র কাছে দল পাঠানোর আগেই সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলতে চায় তারা। যদিও সভাপতি প্রথমে বলেছিলেন, ৮ আগস্ট (গতকাল) এ বিষয়ে বোর্ড সভা হওয়ার কথা। পরে বলেছেন, সেটা একটু পেছাতে পারে। এখন বিসিবি থেকে একটা ব্যাপার নিশ্চিত হওয়া গেল যে, আজ থেকে দু একদিনের মধ্যেই সভাটি হচ্ছে। আর সে সভায় সাকিবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে নির্বাচকরা সানন্দেই তাকে দলে ঢোকাতে রাজি। নির্বাচকদের অবশ্য আর নতুন করে কিছু না করলেও চলবে। বোর্ড ও সভাপতি নিজ ক্ষমতাবলেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দলে পরিবর্তন আনতে পারেন। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে বোর্ড সভায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপর।
সোনাজয়ী দলে সেরা খেলোয়াড়দের রাখতে অবশ্য আরও একটু ঝামেলা পোহাতে হবে বাংলাদেশকে। ১৮ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ শেষ হবে। পরদিন থেকেই ইনচিয়নে এশিয়ান গেমস শুরু; ক্রিকেট অবশ্য ক’দিন পর শুরু। তারপরও এক ঝাঁক ক্রিকেটারকে যে টেস্ট খেলেই সরাসরি ইনচিয়নে চলে যেতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই।
