বাংলাদেশ ফুটবল দলের এশিয়ান গেমস প্রস্তুতির জন্য সাভারের বিকেএসপিতে চলমান ক্যাম্প নিয়ে কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ তুললেও এখন তা অস্বীকার করছেন। মুলত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি তাবিথ আউয়ালের সাথে বৈঠকের পরই ডাচ কোচ আগের বক্তব্য থেকে সরে দ্াঁড়ান।
তিনি এর আগে গত বুধবার বিকেএসপিতে গিয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে বলেছিলেন তিনি সেখানে থাকতে চান না। সেখানে ফুটবল অনুশীলন করা কঠিন। তাই যে কোনো সময় খেলোয়াড়দের নিয়ে বিকেএসপি ছেড়ে যাওয়ারও হুমকি দেন সাম্প্রতিক সময়ে বাফুফের সাথে বেতন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা এই কোচ ও তার সহকারী রেনে কোস্টার।
কোচদ্বয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবারই তাদের জন্য ভিআইপি রুমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বিকেএসপিতে ডাচ কোচদ্বয়ের থাকতে আসলেই সমস্যা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে গতকাল ঢাকা থেকে আসেন বাফুফের এই কর্মকর্তা।
ক্রুইফ ও তার সহকারী এদিন তাবিথ আউয়ালের ঘন্টাব্যাপী বৈঠক শেষে শুধু বলেন, ‘আমাদের মাঝে অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’ আগের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি সেই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’ এ ব্যাপারে হুমকি দেয়ার কথা তোলা হলে তিনি বিষয়টি ‘মিথ্যে’ বলেও দাবি করেন।
তাবিথ আউয়ালও গণমাধ্যমের কাছে ডাচ কোচদের করা অভিযোগ সম্পর্কে কি আলোচনা হয়েছে জানাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি ট্রেনিংয়ের খোঁজখবর নিতে এসেছি। আমাদের দায়িত্ব ট্রেনিংয়ের আপডেট নেয়া। সেটার জন্য আমি এখানে এসেছি। কোচদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার কথা হয়েছে। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিমূলক কয়েকটা ম্যাচের ব্যবস্থা যাতে করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে আমরা এখানে আসবো যতদিন ক্যাম্প চালু থাকে।’
ক্রুইফরা গত বুধবার বিকেএসপিতে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের হকি সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে এসে অতিথি বেঞ্চে বসে ফুটবল ক্যাম্প নিয়ে কথা বলেন। সেখানেই তিনি বাফুফের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানান। কোচদের এমন অভিযোগে শুনে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কাল তাবিথ আউয়ালকে বিকেএসপি পাঠালে সুর পাল্টান জাতীয় দলের এই কোচ।
