নারী নির্যাতন
মনোহরদী উপজেলার উত্তর কাঁচিকাটা গ্রামে গত মঙ্গলবার মারিয়া আক্তার রনি (২২) নামে এক গৃহবধূকে আগুনের ছেঁকা দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দিয়েছে স্বামী। মৃত সামসু উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া আক্তার রনি একই গ্রামের বাবুল মিয়ার সাথে গত চার বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মারিয়ার কাছে স্বামী বাবুল মিয়া যৌতুক দাবি করে আসছিল। বিয়ের প্রথম অবস্থায় মারিয়া বাপের বাড়ি থেকে বাবুলের চাহিদা মত অর্থ দিতে পারলেও পরে অভাব-অটনের কারণে মারিয়া তার স্বামীর যৌতুকের চাহিদা পূরণ করতে না পাড়ায় নির্যাতন শুরু করে। ঘটনার দিন বাবুল মিয়া মারিয়ার নিকট আবার টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাবুল মারিয়ার হাত পা বেঁধে তার মুখে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুনের ছেঁকা দেয়। সিগারেট জ্বালিয়ে ছেঁকা দিয়ে মারিয়ার বুকে ইংরেজি অক্ষরে বাবুল ও এক গালে বি লেখে। সবশেষে স্বামী বাবুল মারিয়ার মাথা নেড়া করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মারিয়াকে মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করেন।
আহত মারিয়ার চাচা মো. রতন মিয়া বাদি হয়ে মনোহরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী বাবুল মিয়া, শাশুড়ি ও ননদসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবুল হোসেন জানান, আসামি একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘোড়াঘাটে আহত গৃহবধূ হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
ঘোড়াঘাটে যৌতুকের দাবি মিটাতে না পারায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার সুচরিতা রানী (২৩) নামে এক গৃহবধূ ঘোড়াঘাট হাসপাতালের বেডে কাতারাচ্ছে। গত একবছর পূর্বে উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের শয়ন চন্দ্রের সাথে সুচরিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই গ্রামের কতিপয় মাতব্বরের পরামর্শে শ্বশুর-শাশুড়ী ও স্বামী শয়ন যৌতুকের জন্য মারধর করতে থাকে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার দরবারও হয়। গত মঙ্গলবার সুচরিতা রানী যৌতুকের টাকা নিয়ে আসতে অপারগতা প্রকাশ করলে শয়ন স্ত্রী সুচরিতা রানীকে মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতসহ ঠোঁট ফাটিয়ে দেয়। ঘোড়াঘাট থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্বশুর শাশুড়ীর নির্যাতনে
গোলাপী এখন হাসপাতালে
জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর জলঢাকায় স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ীসহ বরের আত্মীয়-স্বজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে গোলাপী এখন হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
মীরগঞ্জ ইউনিয়নের গোলাপ খানের মেয়ে জেসমিন খানম গোলাপীর (১৮) সাথে ২৯ জুলাই কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ বাশারের (২২) সাথে। কিন্তু ছেলের বাবা-মা বিয়ে মেনে নেয় না।
গত ৬ আগস্ট বুধবার মোবাইল ফোনে মেয়েকে ছেলের বাপের বাড়িতে আসতে বলে ছেলে উধাও হয়। শ্বশুরের বাসায় ঢুকতে চাইলে গোলাপীকে মারধর করে। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মেয়েটি আবার সেখানে ঢুকতে গেলে তাকে মারধর করে।
গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা তার খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন মেয়েটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। নীলফামারী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অক্সিজেনরত অবস্থায় সে কাতরাচ্ছে। তার নানী জামিলা বেগম জানান, গোলাপীকে তারা এমনভাবে নির্যাতন করেছে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। একপর্যায় তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার স্বামী হাবিবুল্লাহ বাসারকে না পেয়ে তার বাবা ছাইদুল ইসলাম বসুনিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার ছেলেকে জোর করে নিয়ে এমনটি করা হয়েছে আমি এ বিয়ে মানি না।
