কানাডায় আয়োজিত মন্ট্রিল বিশ্ব চলচ্চিত্র উত্সবের ৩৮তম আসরে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। একাধিক প্রামাণ্য চিত্রসহ ফিচার ফিল্মও প্রদর্শিত হচ্ছে এই উত্সবে। বিশ্বের গুণী অভিনেতা, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকার মেলবন্ধন এই চলচ্চিত্র উত্সব। সেই উত্সবে কানাডা প্রবাসী প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ইকবাল লিখেছেন বিনোদন প্রতিদিনের জন্য তার কিছু অভিজ্ঞতার কথা
কানাডার এই উত্সবে অংশ নিয়েছি আগেও। পরিচিত, প্রিয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়াটাই মূল উদ্দেশ্য। এর ভেতরে এবারে দেখা হলো ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা রজত কাপুরের সাথে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওর ভীষণ ভক্ত। এ কথা বলতেই লাজুক হাসি হাসল। রজত বলল তোমাদের তারেক মাসুদের ‘ক্লে বার্ড’ আমি কানে দেখেছিলাম। এরপর দুই দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে আড্ডা চলল বেশ কিছুক্ষণ। গালা ওপিনিং হলো উত্সবের। পুরো উত্সব আর আমাদের আড্ডার অনুষঙ্গ তিলে তিলে বিশাল করার অবদানে যিনি সেই আলী আদিল খানের দু’জনই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ বছর আবার সার্বিক দায়িত্বে যোগ দিয়েছে টরন্টোবাসী ভারতীয় তরুণ চিত্রকর ভিশালের শিশু-শিশু মুখের সুন্দরী স্ত্রী আনু ভিতাল, সে নিজেও একজন শিল্পী।
দুপুরে যখন আমি ফিরেছি শুনে বাসায় ফোন করল। চিত্কার করে বলল, ‘আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না! সাড়ে ৬টায় তুমি মিসিসাগা স্কয়ার ওয়ান সিনেপ্লেক্সে রেড কার্পেট গালাতে আসবেই!’ আসমার এই কল করার আগেই আমার গাড়ি নিয়ে ইউনির্ভাসিটিতে চলে গেছে, ফিরবে রাত ৯টায়। যেতে হলে আমাকে বাস তারপর সাবওয়ে ট্রেন এবং ইউনিয়ন স্টেশন থেকে আবার দূর পাল্লার বাস নিতে হবে। যেতে ইচ্ছেও করছে আবার দূর দেখে ইচ্ছা উবে যাচ্ছে। মনুষ্য চরিত্র কি আজব! ঢাকায় পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট বাসে উঠতে দ্বিধা করতাম না। আর টরন্টোর পরী আর জ্বিন ড্রাইভার চালিত অপূর্ব সব শীতল বাসে উঠতে ইচ্ছা করে না। ৭টা বিশে যখন বাস ছাড়ে হাইওয়ে গার্ডিনার পাম্পার টু বাম্পার জ্যাম। এত কিছু পার হয়ে পেলাম—সিনেমার শেষ হতে মাত্র ১৫ মিনিট বাকি। তখন রজত হাসতে হাসতে বলল, ‘চল ছবির শেষ ক্লাইমেক্স দেখি।’ এভাবেই বন্ধু আর রজতের সঙ্গ যেন সন্ধ্যাটা ক্রমেই মূল্যবান করে তুলল। বাংলাদেশি প্রামাণ্যচিত্রের প্রশংসা করল রজত। আমিও তাকে রেফারেন্স দিলাম। মন্ট্রিল বিশ্ব চলচ্চিত্র উত্সবে তাই রজত আর আমার এই আড্ডাটা যেন সাংস্কৃতিক এক বিনিময়ের মতো লাগল। রজতও যেমন জানাতে চায়, আমিও তেমনি শুনি ওর গল্প।
