মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দীর্ঘদিনই অবলোকন করে আসছিলেন উত্তর ইরাকে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা বিভিন্ন নাশকতা চালিয়ে আসছে। একের পর এক তারা দখল করে নিচ্ছে অনেক এলাকা। বহু প্রাণহানি ঘটছে। বেসামরিক লোকও রেহাই পাচ্ছে না তাদের হামলা থেকে। ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের উপর সমপ্রতি ইসলামি জঙ্গিদের (আইএসআইএল) হামলা তীব্র হতে থাকলে, তখন গণহত্যার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পর্যবেক্ষণ রুমে থেকে তিনি বিষয়গুলো অবলোকন করতে থাকেন। মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য পেতে থাকেন তিনি। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলছে বলে সেখানে আলোচনা হয়। নারী ও শিশুদের উপরও অত্যাচার চলতে থাকে। প্রাণভয়ে খ্রীস্টান সমপ্রদায়ের হাজার হাজার লোক পালাতে থাকে। সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের লোকজন পাহাড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেখানে তারা জঙ্গিদের ফাঁদে পড়ে যায়। পানির অভাবে অনেকেই কাতরাতে থাকেন। এমনই বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট ওবামা ইরাকে বিমান হামলা চালানোর অনুমতি দেন। জুন মাসে এই সুন্নী জঙ্গিদের তত্পরতা যখন আরো বাড়তে থাকে ওবামা তখন থেকেই এ বিষয়ে বেশি করে ভাবতে থাকেন। মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরী পারস্য উপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। সে সময়ে ওবামা তাদের মার্কিন নাগরিক ও দূতাবাসের রক্ষায় কয়েকশ’ উপদেষ্টা পাঠায়।
পেন্টাগনও ইরাকিদের সহায়তায় আসার জন্য আহবান জানায়। তবে কূটনীতিকরা চাচ্ছিলেন, রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য। বুধবার ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওবামা ওয়াশিংটনে আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে তিনদিনের সম্মেলনে ছিলেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের লোকজন প্রাণভয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওইদিন হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। সেখানে বলা হয়, ইরাক ইয়াজিদিদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডিম্পসি হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ওবামা বলেন, ইয়াজিদিদের জন্য মানবিক সহায়তা দেয়া অবশ্যই প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। ইবরিল থেকেও লোকজন পালিয়ে যেতে শুরু করে।
