উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসামে ষাট বছরেরও বেশি সময় পরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ করার কাজ শুরু হতে চলেছে। রাজ্য সরকার জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি বলা হয়, সেটিকে হালনাগাদ করার জন্য পাঁচশোরও বেশি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়েছে সংবাদমাধ্যমে।
এই নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ না হওয়ার কারণে বহু বাংলাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত হয়ে গিয়ে হেনস্থা হতে হয় সে রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের হাতে। জাতীয়তাবাদী দলগুলো বা বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন সকলেই দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
সমস্ত ছাত্রসংগঠন আর জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এই নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াটা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তা অনুমোদনও করেছে। ১৯৫১ সালে শেষবারের মতো এই তালিকা তৈরি হয়েছিল। আটের দশকের রক্তাক্ত আসাম আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অল আসাম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন বা আসু অথবা বোড়ো বা মুসলিম বা অন্যান্য জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ করার দাবি জানিয়ে আসছে। ওই সব সংগঠন বলে থাকে যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ করলেই বোঝা যাবে কে বা কারা কবে আসামে এসেছে।
নাগরিক পঞ্জি হালনাগাদ না হওয়ার কারণে বহু বাংলাভাষী মুসলমানকে যেমন হেনস্থা হতে হয় অনুপ্রবেশকারী বা সন্দেহজনক ভোটার বলে চিহ্নিত হয়ে গিয়ে, তেমনই বোড়ো জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে বারে বারে রক্তাক্ত দাঙ্গা বাঁধে বাংলাভাষী মুসলমানদের।
