বিএনপির এই সরকার পতনের আন্দোলন যেন ধ্বংসযজ্ঞের দিকে না যায়
ঈদের আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে ঈদের পর থেকে। কিন্তু এই সরকার পতনের আন্দোলন দেশের জন্য শান্তি বয়ে আনবে না দেশকে আরও পিছিয়ে দেবে তা বলা দুষ্কর। বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এক কথায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর তারা বিভিন্নভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছে। সব ক্ষেত্রে সফল না হলেও দেশের মানুষ এমন আগের চেয়ে সুখে শান্তিতে বাস করছে। একজন নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে আমি বলতে পারি, বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন দেশের জন্য শুভ ফলও বয়ে আনতে পারে আবার দেশে বিশৃংঙ্খলাও সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে আমরা দেখেছি সরকার পতনের আন্দোলনের ফলে দেশে নৈরাজ্য, ঝামেলা এগুলো বৃদ্ধি পায়। আবার এমনও হতে পারে যে এই আন্দোলনের ফলে দুই দল একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে। দেশের মানুষ কোন নির্দিষ্ট দল চায় না। চায় সেই দল যে দল দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে কাজ করবে। তাই সবার প্রার্থনা বিএনপির এই সরকার পতনের আন্দোলন যেন ধ্বংসের জন্য না হয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য হয়।
সঞ্জিত মণ্ডল
থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সরকার পতনের একমাত্র উপযুক্ত স্থান হলো রাজপথ
মহাজোট সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাধারণ মানুষ তাদের রক্তে অর্জিত সেই স্বাধীন দেশ আজ কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছে। এখন সাধারণ মানুষের কোথাও একটু নিরাপদ স্থান নেই। রাস্তা-ঘাট, অফিস আদালত নিরীহ মানুষ অপহরণ, গুম, হত্যা চারিদিকে ওত পেতে থাকা হায়নাদের কারণে। সারাদেশের মানুষ নিপীড়িত নির্যাতিত’ তাই দল-মত নির্বিশেষে প্রধান বিরোধী দল যে আহবান করেছে সেটা দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। অতএব সরকার পতন করার একমাত্র উপযুক্ত স্থান হবে ‘রাজপথ’ সারাদেশের একটাই চাওয়া আওয়ামী লীগের চলে যাওয়া।
শাহারিয়ার টনিক
বি,এস,সি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জি:নর্দান ইউনিভার্সিটি
সরকার পতনের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যেন মানুষ হত্যার রাজনীতি না হয়
বাংলাদেশে সরকার বদল হয়। বদল হয় ক্ষমতার। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজন হয় নির্বাচনের। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে প্রত্যেকটা দল বেপরোয়া হয়ে ওঠে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে। হোক সে বিরোধী দল, নয়তোবা সরকারি দল। ক্ষমতা দখলের জন্য বেপরোয়া এইসব রাজনৈতিক দলের কোন্দলে পড়ে বলিদান হতে হয় দেশের লাখ লাখ সাধারণ জনতাকে। এখন নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দেখতে পাচ্ছি একই অবস্থার পূর্বাভাস। কিছুই বুঝতে পারি না বাংলাদেশের রাজনীতি। আসলে আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। সেই জনগণকে হত্যা করেই যদি আমাদের ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করতে হয় তাহলে শান্তি কোথায় এই রাজনীতিতে? কিসের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি আমরা। মানুষ হত্যা করে আমাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যে নাকি সকল বাধা বিপত্তির হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করে একটা নিখাদ সোনার বাংলা উপহার দেয়ার জন্যে?
প্রণব কুমার সাহা
বিএসএস, প্রথম বর্ষ
রাজবাড়ী সরকারী কলেজ, রাজবাড়ী
আন্দোলন হতে পারে জনগণ এবং দেশের স্বার্থে কিন্তু দলীয় স্বার্থ হাসিলের আন্দোলন জনবিরোধী
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০০৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি ক্ষমতার বাইরে। ঐ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ তাদের পূর্ব কাজের সফলতা স্বরূপ নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় বি.এন.পি প্রধান বিরোধী দলেরও বাইরে থেকে যায়। দীর্ঘ দিন পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বি.এন,পি ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু, এই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখবে তখনই যখন তারা জনগণ এবং দেশের কল্যাণে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে। অন্যথায়, তাদের এই জনবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে দেশের আপামর জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
রিপন সাহা
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার রিং বিভাগ,
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা
আন্দোলনের আয়োজন নয়, আলোচনার আয়োজন করুন
দেশের অর্থনীতির চাকা যখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল, মানবতার সূচক যখন ঊর্ধ্বগতিতে, তখন বিএনপির চেয়ারপারসন সরকার পতনের নামে যেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তাতে দেশের জনগণ উদ্বগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধী দলের নেতার মতো একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ এর কাছ থেকে আমরা নির্দেশনা মূলক বক্তব্য চাই, কোন হুমকি নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক বা আন্দোলনের ইস্যু করার সুযোগ নেই। কারণ নির্বাচনটি আইনগত দিক থেকে বৈধ। আর নির্বাচন যেহেতু বৈধ সেহেতু সরকারও বৈধ। একটি বৈধ সরকারকে পতন করার জন্য যে কোন আন্দোলন মানেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে বিবেচ্য। আমরা ছাত্র-সমাজ নৃশংস, হত্যা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমরা বিশ্বাস করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিএনপি নিজ উদ্যোগে আলোচনার সব ব্যবস্থা করতে পারে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, রাষ্ট্রের সব সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদেরই।
মো. মিনহাজুর রাহমান ভূঞা
শিক্ষার্থী, শেষ বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
