স্মরণসভায় ঘনিষ্ঠজন
বিলাসিতার মোহে কখনও আকৃষ্ট হননি তিনি। অবস্থানের দম্ভ ছিল না তার। প্রধানমন্ত্রীর পরম ঘনিষ্ঠ হয়েও তার জীবনে আসেনি অনাকাঙ্ক্ষিত কোন পরিবর্তন। আগাগোড়া নিরাভরণ জীবন-যাপন করেছেন তিনি। সরল, সাদামাটা ও সত্ জীবনের প্রতিচ্ছবি ছিলেন বেবী মওদুদ। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বন্ধু, সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা এভাবেই স্মৃতির পট থেকে আঁকেন সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সংসদ সদস্য বেবী মওদুদকে। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড.আনিসুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নারী শিশু ও প্রবীণদের জন্য বেবী মওদুদের বিশেষ দুর্বলতা ছিল। আমি লক্ষ্য করি, তিনি মন্ত্রীদের সব সময় প্রবীণদের জন্য কি করা হচ্ছে, তাদের প্রবীণ কার্ড দেয়া হবে কিনা এসব বিষয় মন্ত্রীদের প্রশ্ন করতেন। তিনি নারী উন্নয়ন নীতির বিষয় স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেক মতামত দিয়ে সহযোগিতা করেন।
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আমার ছাত্রী হিসাবে আমি বেবী মওদুদকে নানা আন্দোলনের মধ্যে দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নিকটজন হওয়ায় অনেক মানুষ তার কাছে নানা সুপারিশ নিয়ে আসলে তিনি দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং নিজের যতটুকু প্রাপ্য ছিল, তা না নিতে পারলেও যেন বেবী মওদুদ বেঁচে যেতেন। তার সরল কর্মজীবন আদর্শের কাছে আমাদের অনেক কিছু নেয়ার আছে।
সভায় হাসান হাফিজ বেবী মওদুদের কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। এতে তার জীবনী, কর্ম ও স্মারকগ্রন্থ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশের অনুরোধ করা হয়। উপস্থিত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান তা প্রকাশের আশ্বাস দেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেবী মওদুদের দুই পুত্র সফিউল হাসান দীপ্ত ও রবিউল হাসান অভি, সহকর্মী সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী প্রমুখ।
