মংলায় তিনবার পিছালো সিবিএ নির্বাচন

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৫
মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে পরপর তিনবার মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিবিএ ‘মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় বন্দরের ১১ শতাধিক ভোটারের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দু’টি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যে কোন সময় দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করছে প্রার্থী ও ভোটাররা। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে যে কোন মুহূর্তে বন্দর এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশংকা করছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বন্দরের সিনিয়র অডিট অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) আবু সুফিয়ান বলেন, তিনবার নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও নির্বাচনের আগমুহূর্তে আদালতে দায়েরকৃত মামলার কপি হাতে এসে পৌঁছায় আইনগত কারণে নির্বাচন স্থগিত করতে হয়েছে। এতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লোকজনও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিটি থেকে লোকজন সরে যেতে চাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ ভোটাররাই নির্বাচন চাচ্ছেন। কিন্তু এক পক্ষ নানা অজুহাতে তা হতে দিচ্ছে না। একটি পক্ষ বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে কিছু লোকজন বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন, আরেকটি পক্ষ চাচ্ছে কেউকে বাদ না দিয়ে সকলকে নিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এ নিয়ে দু’পক্ষ দড়ি টানাটানি করছে। সংঘের সভাপতি প্রার্থী আলী হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক (স্বতন্ত্র) পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৬ আগস্ট। এর আগে ২৩ জুলাই ও ২৬ জুন নির্বাচনের দিন ধার্য থাকলেও সংঘের বর্তমান পরিষদের এক নেতা তার অনুসারী লোকজন দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পর পর ৩ বার এ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সংঘের সদস্য হিসেবে যারা বার বার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করে আসছে তাদের মধ্যে বেশ কিছু সদস্যকে ভোটার তালিকা থেকে বাতিলের উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা দিয়ে নির্বাচনকে পণ্ড করে দেয়া হচ্ছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের বর্তমান ভোটারের সংখ্যা ১১শ’ ৫৮জন। দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট ১৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৯জন প্রার্থী। নির্বাচনে দু’টি প্যানেলে ৫০জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৯জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মামলার কারণে ৩ বার নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ফের কবে নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিতভাবে কেউই কিছু বলতে পারছে না। সর্বশেষ দায়েরকৃত মামলার কারণে ৬ আগস্টের নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত হয়। আগামী ১১ আগস্টের পর যে কোনদিন এ মামলার শুনানি হবে তারপর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই।