গাজায় ইসরাইলি নারকীয় তাণ্ডবের নিন্দা চলছে বিশ্বজুড়ে। চলছে তর্ক-বিতর্ক। গাজায় ইসরাইলি বোমার আগুন নিয়ে আবেগ পাল্টা আবেগের ঝড় থেকে শত চেষ্টা সত্ত্বেও দূরে থাকতে পারল না হলিউড। পক্ষে-বিপক্ষে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে মন্তব্য, প্রকাশ্য বিবৃতি সবকিছু মিলেই মার্কিন ফিল্মের এই স্বপ্নরাজ্যে তৈরি হচ্ছে আড়াআড়ি বিভাজন। ইসরাইলি সেনার হামলায় গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসের পরিমাণ আর নিহতের সংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তা দেখে হলিউডের ‘আনুষ্ঠানিক নীরবতা’ ভেঙে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মুখ খুলেছেন রিহানা এবং সেলেনা গোমেজের মতো বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রীরা। পাশে পেয়েছেন ‘সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্ব’ খ্যাত চিত্রপরিচালক জোনাথন ডেমকে। অভিনেতা মার্ক রাফেলো, ওয়ালেস শঁ এবং সঙ্গীতশিল্পী রজার ওয়াটার্সও গাজায় চলা হত্যালীলার বিপক্ষে সরব হয়েছেন। জোনাথন ডেম বলেছেন, ‘রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি না। যেভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা এবং গোটা একটা সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে, তাতে আমি চিন্তিত।’
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সমর্থকেরও অভাব নেই হলিউডে। চিত্রপরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ, সঙ্গীতশিল্পী তথা অভিনেত্রী বারবারা স্ট্রিসান্ড বা প্রযোজক জেফরি কাটজেনবার্গের মতো প্রখ্যাত ইহুদিরা বরাবরই ইসরাইলপন্থি হিসেবে পরিচিত। তবে এ প্রসঙ্গে ওই তিনজন আপাতত নীরবতা বজায় রেখেছেন। এই দলে অভিনেতা জন ভয়েট বা কমেডিয়ান রিভার্সের মতো কট্টরপন্থী মার্কিনরাও রয়েছেন। ‘মিডনাইট কাউবয়’ ছবির নায়ক ভয়েট তো ‘হলিউড রিপোর্টার’ পত্রিকায় খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। তার কথায়, ‘আমি ক্ষুব্ধ বললেও কম বলা হয়। পেনোলোপি ক্রুজ বা জাভিয়ার বারডেম যেভাবে ইহুদি-বিদ্বেষে উস্কানি দিচ্ছেন, তা ভাবা যায় না। এরপরই ক্রুজ-বারডেম জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে ইসরাইলের ক্ষয়-ক্ষতি নিয়েও তারা ব্যথিত। সামান্য পিছু হটেছেন রিহানাও। টুইটারে ‘মুক্ত প্যালেস্টাইন’-এর ডাক দেয়ার আট মিনিট পরেই বহু বিরোধী মন্তব্যের জেরে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি মুছে দেন তিনি। সেলেনা গোমেজকে কটাক্ষ করে রিভার্স বলেছেন, ‘উনি কোন কলেজে পড়েছেন? প্যালেস্টাইন বানান করতে পারবেন?’
