বৃষ্টির কারণে ম্যানচেস্টার টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রায় দুই সেশনের খেলা নষ্ট হয়। তারপরও পরও ইংল্যান্ডের কাছে তিন দিনেই হেরেছে ভারত। প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে অলআউটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রানের বেশি করতে না পারায় ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জাও এড়াতে পারেনি দলটি।
তার চেয়েও বড় কথা হল অসুস্থতার কারণে পুরোপুরি ফিট হয়ে বোলিং করতে পারেননি জেমস অ্যান্ডারসন। আর ব্যাটিংয়ের সময় মুখমণ্ডলের ইনজুরি নিয়ে হাসপাতালে ছিলেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড। এতোকিছুর পরও শেষ রক্ষা হল না ভারতের। লজ্জা এড়ানো গেল না। ম্যাচ ুশেষে তাই হারের লজ্জা ছুঁয়ে গেল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও।
দৃশ্যপট বদলে যেতে কত অল্প সময়ই না লাগলো। কিছুদিন আগেও লর্ডসে যে দলকে অজেয় বলে মনে হচ্ছিল সেই দলই ইংলিশদের সামনে নেমে আসলো মর্তে। দুই ম্যাচ আগেও যারা ছিল আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, তারা আজ পরাজিত, বিধ্বস্ত সৈনিক। খানিকটা ভেঙ্গে পড়েছেন দলটির অভিজ্ঞ অধিনায়ক ধোনি। লজ্জা মুছে ফেলে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার লক্ষ্যের কথা জানালেন তিনি, ‘আশা করি দলের ক্রিকেটাররা এই ম্যাচটা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তুলবে। সামনের টেস্টটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
এই হারের ফলে সর্বশেষ দেশের বাইরে সর্বশেষ ১৮টি ম্যাচের ফলাফল দেখলেই সামনে চলে আসবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দুর্দশার চিত্রটা। এদের মধ্যে ভারত জিতেছে মাত্র একটা টেস্টে। চতুর্থ টেস্ট ইনিংস ও ৫৪ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড।
শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৬ উইকেটে ২৩৭ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। আগের দিনের ৬৭ রানের জুটিকে ১৩৪ পর্যন্ত এগিয়ে নেয়ার পর বিচ্ছিন্ন হন জো রুট ও জস বাটলার।
রুটকে (৭৭) মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্যাচে পরিণত করে নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট নেন পঙ্কজ সিং। এ জন্য ৬৯.২ ওভার বল করতে হয়েছে এই পেসারকে। পরে বাটলারকেও (৭০) ফেরান তিনি।
আহত হয়ে স্টুয়ার্ট ব্রড (১২) মাঠ ছাড়লেও ক্রিস ওয়কসের (২৬*) দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে ৩৬৭ পর্যন্ত যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ভারতের পক্ষে ভুবনেশ্বর কুমার ও বরুণ অ্যারন তিনটি করে উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে অন্তত ২১৫ রান করতে হতো ভারতকে। তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি দলটি। প্রথম ইনিংসে ৪৬.৪ ওভার ব্যাট করতে পারা দলটি এবার টিকে কেবল ৪৩ ওভার।
চোটের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ সেরা স্টুয়ার্ট ব্রড বল করতে না পারলেও কোনো সমস্যাই হয়নি ইংল্যান্ডের। প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে ৬ উইকেট নেয়া ব্রডের অভাব বুঝতেই দেননি মইন আলী। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে এই স্পিনারই দলের সেরা বোলার।
ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছালেও তাদের কেউই বিশের ঘরে যেতে পারেননি। বিরাট কোহলি (৭) আর আজিঙ্কা রাহানে (১) দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি।
হতাশ করেন ধোনি (২৭) আর রবীন্দ্র জাদেজাও। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬৬ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতকে আরো বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে বরুণ আর পঙ্কজকে বিদায় করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ক্রিস জর্ডান।
ম্যাচের প্রথম সেশন থেকেই ব্যাকফুটে ছিল ভারত। সেদিক থেকেই ভারত পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অধিনায়ক ধোনি, ‘আমরা জানতাম উইকেটে কিছুটা বাউন্স থাকবে। কিন্তু শুরুটা উইকেটে কাটিয়ে দিতে পারলে ব্যাটসম্যানদের রান পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা যে এতো বাজে ভাবে ভেঙ্গে পড়বেন সেটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল। প্রথম ২০-২৫ ওভার কাটিয়ে দিতে পারলেই হত। কিন্তু সেটা আমরা পারিনি। এখানেই মূলত আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’
গোটা সিরিজ জুড়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার ভাগীদার হতে হয়েছে বিরাট কোহলিকে। এখানে আসার আগ পর্যন্ত তাকেই মনে করা হত ভারতের বটেই বর্তমান বিশ্বেরই অন্যতম প্রতিভাধর ক্রিকেটার। ব্যাটিং গড় ৪৭ও এর পক্ষেই রায় দেয়।
কিন্তু সিরিজ শুরু হতে না হতেই যেন হারিয়ে গেলেন কোহলি। ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান মাত্র ১৩.৫০ গড়ে চারটি টেস্টে করেছেন ১০৮ রান। তবে, এতো সহজেই বিরাটকে বাদ দিয়ে দেয়ার যুক্তি দেখছেন না ধোনি। তিনি বলেন, ‘বিরাটের একটা খারাপ সময় যাচ্ছে। যেকোন ব্যাটসম্যানের জীবনেই এমনটা আসতে পারে। দুই থেকে তিন মাস ভারতের হয়ে ও অসাধারণ খেলে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অসাধারণ সব ইনিংস খেলেছে। এখনই তাই ওর উপর থেকে ভরসা তুলে নেয়ার কোন কারণ নেই। দ্রুতই ও ফর্মে ফিরবে। তখন ওর মধ্যেও আসবে আরো উন্নতি।’
শুধু কোহলি নয়, ইংল্যান্ড থেকে মান বাঁচিয়ে ফিরতে গোটা ভারতীয় দলের মধ্যেই উন্নতিটা খুবই জরুরি!
