গোদাগাড়ীর হাট-বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও শিম

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২১:০২
উপজেলায় গ্রীষ্মকালীণ শিম ওঠা শুরু করেছে। বাজারে প্রতি কেজি গ্রীষ্মকালীন শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। উপজেলার ইমামগঞ্জ গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান ৪ বিঘা জমিতে অটো জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছে। তার প্রতি বিঘায় শিম চাষে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তিনি কেবল শিম বিক্রি শুরু করেছেন। গোদাগাড়ী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ হয়েছে ৪০ বিঘায়। আর টমেটো চাষ হয়েছে ৩ বিঘায়। প্রতি বিঘা শিম চাষে কৃষকদের খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। বেশির ভাগ কৃষক অটো জাতের শিম চাষ করেছে বেশি। প্রতি বিঘা টমেটো চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর চাকরি না পেয়ে কৃষি কাজে নেমে পড়েন। গত বছর ৫ কাঠা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এবার তিনি ৫ কাঠা জমিতে সামার কিং জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম প্রথমবারের মত ৭ কাঠা জমিতে সামার কিং জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করতে গিয়ে খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। গত ১ সপ্তাহ থেকে টমেটো ওঠা শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ৩০ কেজি টমেটো বিক্রি করেছে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ১’শ টাকায়। পবা উপজেলার বিরস্তপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ ও দুলাল হোসেন ১০ কাঠা করে ১ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। তাদের ১ বিঘা টমেটো চাষে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। এই দুই কৃষক এখন পর্যন্ত টমেটো বিক্রি করেছে ১০ কেজি করে। এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম বলেন, ২০১১ সালে গোদাগাড়ী উপজেলার কয়েকজন কৃষক ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদেরকে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও শিম চাষ সরজমিনে পরিদর্শনের জন্য যশোর এবং পাবনা জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। বীজ সংগ্রহ করে এসব কৃষকদেরকে দেয়া হলে তারা গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও শিম চাষ করে। প্রথম বছর বেশি লাভবান না হলেও পরের বছর থেকে কৃষকরা টমেটো ও শিম চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়। প্রতি বছর গোদাগাড়ী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ২য় শস্য বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় কৃষকদেরকে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও শিমসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম আরও বলেন, মধ্য মে থেকে মধ্য জুনের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও শিম চাষ রোপণ করতে হয়। অটো জাতের শিম ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ২০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গোদাগাড়ী এডিপি শাখা। বটিয়াঘাটায় টমেটোর আবাদ লাভের আশা কৃষকের বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, আইলা আর সিডরের ভয়াবহ তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন গ্রামে এবার চাষিরা টমেটো চাষ শুরু করেছেন। টমেটো চাষে মহিলারাই বেশি উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন। অসময়ে টমেটো ফলিয়ে উচ্চ মূল্যে বাজারে বিক্রয় করে মোটা অংকের টাকা লাভের আশায় তারা নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনায় পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলেছেন টমেটোর আবাদ। গাছে টমেটোও ধরেছে প্রচুর। বাম্পার ফলন লাভের সম্ভাবনায় গৃহবধূদের মুখে ফুটেছে হাসি। বটিয়াঘাটা ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের গৃহবধূ মাধুরী মলি¬ক ৫, সুমিতা ইজারদার ৬, মলিনা ২, হেতালবুনিয়ার শিখা গোলদার ৫, নির্মল বৈরাগী ৭, ভেন্নাবুনিয়ার সমর মন্ডল ৩ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। গৃহবধূ মাধুরী জানান, তার টমেটো চাষ করতে মোট দশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফল ভাল হওয়ায় তিনি ৫০/৬০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রয়ের আশা করছেন। অন্যান্য কৃষাণীরাও বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্র্যাকের উদ্যোগে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় টমেটো চাষ করার পরামর্শ দেয়া হয়। একই সাথে ব্র্যাকের নিকট থেকে অনুদান পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাবলম্বী হবার লক্ষ্যে তারা চাষ শুরু করেন। ব্র্যাক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির বটিয়াঘাটা ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, গত বছরও কয়েকটা গ্রামে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের চেষ্টা করা হয়। কয়েকজন কৃষক চাষ করে উত্পাদিত ফসল বিক্রির মাধ্যমে অসময়ে ভাল অর্থ লাভ করায় এ বছর অনেকেই উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন।