বিদায় গোল-মেশিন!

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৮
ওয়ের্ডার ব্রেমেন কিংবা ল্যািসওর মত ক্লাবে তিনি খেলেছেন। কিছুদিন খেলেছেন বায়ার্ন মিউনিখের মত বড় ক্লাবে। কিন্তু সেটা কখনওই তার বড় পরিচয় হয়ে উঠতে পারেনি। বলা ভাল, তিনি নিজেই সেটা হতে দেননি! কিন্তু সেই না হওয়াটা নিয়ে কোন দু:খ থাকার কথা না মিরোস্লাভ ক্লোসার। গতকাল যখন জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন তখনও ভাষায় ছিল না কোন ক্ষোভ, রাগ কিংবা অভিমান। ছিল না কোন না পাওয়ার বেদনা। ছিল কেবল একজন গোল মেশিনের অহঙ্কার। ছিল বুক চিতিয়ে লড়াই করে যাওয়া একজন স্ট্রাইকারের গৌরব, ‘ব্রাজিলে যে শিরোপাটা জয় করলাম, তার জন্য স্বপ্ন দেখেছি শিশুকাল থেকে। দলের সাফল্যের কারণেই আমি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছি। বিদায় বেলায় আমি কেবল এটুকু বলতে চাই যে, জার্মানির হয়ে যে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছি তার জন্য আমি গর্বিত। সকলে মিলেই আমরা এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। অসাধারণ, অনন্য একটা সময় আমি পাড় করেছি জার্মান দলটির সাথে। গত কয়েকদিন যাবত্ ফেলে আসা দিনগুলোর কথা বার বারই আমার মনে আসছে। বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে ভাল সময় আর হতে পারে না।’ মিরোস্লাভ ক্লোসা সত্যিকার অর্থেই ছিলেন জার্মানির জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়া একজন খেলোয়াড়। ক্লাব ফুটবলে আহামরী কোন রেকর্ড না থাকলেও জার্মানির জার্সি গায়ে চাপালেই হয়ে উঠতেন দানবীয়। চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দলটির হয়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডই তার দখলে। ১৩৭টি ম্যাচ খেলে ৭১টি গোল করেন তিনি। শুধু কি তাই! বিশ্বকাপ এলেই যেন তিনি আরো কয়েকগুন ধারালো হয়ে উঠতেন। এবারের বিশ্বকাপেই দেখা গেল তার শেষ ঝলক। এখানেই শেষ, আর নয়; বলে দিয়েছেন ক্লোসা। বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচটাই হয়ে রইলো তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগেই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদোর রেকর্ড। চারটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার করা ১৬টি গোল তাকে নিয়ে গেছে ইতিহাসের চূড়ায়। বিদায় বেলায় সেসবের কথাও স্মরণ করলেন তিনি। তবে জার্মান দলটাই যে তার কাছে মুখ্য সেটাও বলে দিলেন আরেকবার, ‘এর বাইরেও আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু অর্জন করেছি। এবং যারা আমাকে চেনে তারা সবাই জানে আমি অত্যন্ত উচ্চাভিলাসী। কিন্তু আমি একজন স্ট্রাইকার এবং একজন স্ট্রাইকারের কাজ গোল করা। সেটা করতে পেরেছি। তবে রেকর্ড নিয়ে আমি কখনওই চিন্তিত ছিলাম না। তবে সব সময়ই দলের জন্য আমার সেরাটা দেয়াই ছিল একটি বিষয়।’ বিদায়টাও কি রাজকীয়ই না হল! হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি। নামের সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তকমা। গ্রেট হতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার পড়ে না!