ইনজুরির কারণে রামাদেল ফ্যালকাওকে ছাড়াই বিশ্বকাপ খেলতে ব্রাজিল উড়াল দিতে হয় হোসে প্যাকারম্যানের দলকে। এই শূন্যতা নান্দনিক খেলা দিয়ে অনায়াসেই পূর্ণ করেছেন হামেস রড্রিগেজ। দলটি যে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে এর প্রত্যেকটিতেই গোল উপহার দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটও জিতে নিয়েছে। শুক্রবার মাদ্রিদে আনুষ্ঠানিকভাবে গোল্ডেন বুট রড্রিগেজের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ সময় ব্রাজিল বিশ্বকাপ, নিজের পারফরম্যান্স এবং নৈপুণ্য নিয়ে ফিফা ডটকমকে বিশেষ সাক্ষাত্কার দেন রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন তারকা—
ফিফাডটকম: ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরুর পর দু’মাস হয়ে গেল। কিন্তু আপনার অর্জন তো এখনও তরতাজা।
হামেস রড্রিগেজ: এটা আমার জন্য দারুণ একটি টুর্নামেন্ট ছিল এবং কলম্বিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আরো এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাদের। তাদের ভাল অনেক খেলোয়াড় ছিল এবং আমাদের স্বপ্ন এখানেই শেষ হয়ে যায়।
ফিফা: পাঁচ ম্যাচ থেকে ছয়টি গোল করেছেন। কোন গোলটি আপনার সবচেয়ে পছন্দের এবং কেন?
রড্রিগেজ: ছয়টি গোলই আমার পছন্দের। সবগুলো গোলই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গোলগুলো খেলা জিততে সাহায্য করেছে। ছয়টি গোলের প্রত্যেকটিই স্পেশাল। কারণ এমন বড় একটি টুর্নামেন্টে গোল করা মানে অতুলনীয় কিছু।
ফিফা: উরুগুয়ের বিপক্ষে ভলি থেকে করা আপনার গোলটি টুর্নামেন্ট সেরা গোল নির্বাচিত হয়েছে। এরপর থেকে গোলটি আপনি কতবার দেখেছেন? আপনি যদিও আরো একশো বার চেষ্টা করেন, তাহলে কয়বার এমন গোল করতে পারবেন?
রড্রিগেজ: প্রায় ২০ বার আমি এটা দেখেছি......(হাসি)। আমি সবসময় অনুশীলনে এমনটা করতে চেষ্টা করতাম। আপনি যদি ১০০ বার চেষ্টা করেন, তাহলে এমন দু’টি গোল হতে পারে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে জাপানের বিপক্ষে করা গোলটি আমার অধিকতর পছন্দের। এটা ছিল অধিকতর উত্কৃষ্ট গোল, জাদুর চেয়েও বেশি কিছু। সুন্দর একটি গোল ছিল এটি।
ফিফা: কলম্বিয়ার প্রধান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রামাদেল ফ্যালকাও ছিলেন না। এর ফলে আক্রমণভাগে আপনি কী উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলেন?
রড্রিগেজ: ফ্যালকাও পাশে থাকলেও আমি সবসময় গোল করার দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা করি। যদিও সে অনেক গোল করেছেন এবং আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সত্যিই আমরা তাকে মিস করেছি। এরপরও আমরা সবসময় গোল করতে চেষ্টা করেছি এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেছি।
ফিফা: ব্রাজিলের বিপক্ষে হারের পর খেলা শেষে ডেভিড লুইজ এসে আপনাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং স্টেডিয়ামে আগত দর্শকদের বললেন আপনাকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাতে। আসলে তিনি আপনাকে কী বলেছিলেন?
রড্রিগেজ: আমার স্বপ্ন ছিল সেমিফাইনাল খেলা, এমনকি ফাইনাল খেলা। ও আমাকে চাঙ্গা করতে চেষ্টা করেছিল, যেমনটা খেলোয়াড়রা এবং সতীর্থরা সাধারণত করে থাকে। কিন্তু এটা এমন কিছু ছিল যা আমি কখনো ভুলবো না।
ফিফা: ব্রাজিল যেভাবে জার্মানির বিপক্ষে হারল, তাতে কী আপনাদের বাদ পড়া নিয়ে আফসোসটা আরও বেশি হচ্ছিল?
রড্রিগেজ: না, এটাই ফুটবল। এখানে প্রত্যেকটা দিনই ভিন্ন। এখানে আপনি একদিন ভাল করবেন, পরের দিন ভাল করতে পারবেন না। তবে এটা একটা ব্যাপার ছিল যে খুব বাজেভাবে তারা হেরেছিল, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা খুব কমই হয়।
ফিফা: আপনি কী মনে করেন জার্মানি এবারের বিশ্বকাপের জন্য যোগ্য দল ছিল?
রড্রিগেজ: জার্মানি সত্যিকার অর্থেই চ্যাম্পিয়ন এবং তাদের দলে অনেক তারকা রয়েছে। যদিও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা চার দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিল।
ফিফা: কলম্বিয়া ১৯৯৮ সালে যখন সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল তখন আপনার বয়স মাত্র ছয়। ওই আসরের কোনো স্মৃতি কী আপনার মনে পড়ে?
রড্রিগেজ: ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই আসরের খুব কম স্মৃতিই আমার মনে পড়ে। তবে এবার আমাদের পুরো দল এবং পুরো কলম্বিয়া ব্রাজিল বিশ্বকাপ খেলবে এমন স্বপ্ন দেখছিল। আমরা ইতিহাস গড়তে চেয়েছিলাম এবং তা করতে পেরেছি। আমরা এমন কিছু করেছি, যা চিরকাল মনে থাকবে।
ফিফা: গোল্ডেন বুট জয়ের প্রতিযোগিতায় অপর দুই প্রতিযোগি থমাস মুলার এবং লিওনেল মেসির প্রতি কী নজর রেখেছিলেন?
রড্রিগেজ: আমি তাদের খুব মনোযোগের সঙ্গে অনুসরণ করিনি, এটা অসম্ভব ছিল। আমি এটা জিততে চেয়েছিলাম। গোল্ডেন বুট জেতায় স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।
ফিফা: গোল্ডেন বুট কোথায় রাখবেন বলে চিন্তা করছেন?
রড্রিগেজ: এটা বাড়ি যাচ্ছে। ওখানেই এটা থাকবে। আজীবনই ওখানে রাখা হবে।
