সংকুচিত হয়ে আসছে এসিসি

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৯
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল বলেছেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত করে বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এর ফলে এসিসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই আশরাফুল খবর জানিয়ে বাংলাদেশি এই ক্রীড়া সংগঠক বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মনে হয় তারা সার্বিকভাবে এসিসিকে বিলুপ্ত করতে চায় না। কিন্তু এর কার্যক্রম হ্রাস করতে চায়। এটা কেবল এসিসির ক্ষেত্রেই নয়, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সকল সংগঠনের ক্ষেত্রেই হবে। এই সংগঠনগুলো সরাসরি আইসিসি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’ এসিসি’র এই ঊর্ধ্বতন কর্তা তাদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোর ভবিষ্যত্ কী হবে, সে নিয়েও খুব সন্দিহান, ‘সৌদি আরব থেকে চীন পর্যন্ত টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো ছাড়া ২১টি দেশের তাদের ক্রিকেটের উন্নয়নে কোচ, আম্পায়ার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯, চ্যালেঞ্জ কাপ, প্রিমিয়ার কাপ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আছে। এগুলোর সব থাকবে কি-না সত্যিকার অর্থে আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই।’ আশরাফুলের ধারণা, বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের পরিকল্পনা অনুযায়ী টেস্ট খেলুড়ে নয় এমন সব দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নেও কাজ করবে আইসিসি। বিগ থ্রি বৈশ্বিক ক্রিকেটকে ছোট করতে চাচ্ছে এবং এর ফলে ক্রিকেট অন্যান্য খেলাধুলার কাছে হেরে যাচ্ছে বলে মনে করেন আশরাফুল, ‘ক্রিকেটকে আঞ্চলিক সংগঠন থেকে বের করে আনাতে ভাল কী বয়ে আসবে এটা আমি জানি না। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ খেলুড়ে ছাড়া যে ছয়টি দেশ খেলেছে এর চারটিই এশিয়ার ছিল। গত বছরগুলোতে আমরা কী কাজ করে যাচ্ছি এটাই এর সরাসরি প্রমাণ।’ আশরাফুল বলেন, বিগ থ্রি কার্যত ক্রিকেটের সম্প্রসারণটা বন্ধই করে দিতে চায় বলে তার অনুমান, ‘আইসিসি তিনটি দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তারা যা বলছে তা হল, খুব বেশি দেশের ক্রিকেট খেলার দরকার নেই। দশটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ এবং এর বাইরে আর আট-দশটি দেশ ক্রিকেট খেললেই চলবে। আইসিসি মনে করে, অন্য দেশগুলোর জন্য অনেক বেশি আর্থিক ব্যয় কাঙ্ক্ষিত কোনো ফল বয়ে আনছে না।’ এমনভাবে চলতে থাকলে ক্রিকেট যে আর বৈশ্বিক খেলা থাকবে না, সেটাও বলে দিয়েছেন আশরাফুল, ‘মূল কথা তারা অনেক দেশে ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান না। তবে আমি মনে করি, আমাদের বিশ্বায়নের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। আমাদের প্রধান প্রতিযোগী হলো ফুটবল। কিন্তু আমরা যদি সব দেশকে ক্রিকেট খেলাতে না পারি, তাহলে আমরা কী করে এটাকে বৈশ্বিক খেলা বলবো?’