পাকিস্তানের রক্ষণাত্মক মনোভাবকে দুষলেন সাবেকরা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫০
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছিল গল টেস্টের শেষ দিনের শুরু থেকেই আঘাত হানতে পারে বৃষ্টি। তবে ম্যাচ বাঁচাতে পাকিস্তানের বৃষ্টির সাহায্য হয়তো প্রয়োজন ছিল না। প্রথম ইনিংসে সাড়ে চারশ’র বেশি রান করা দলটিকে ছয় জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানসহ নয়টি উইকেট হাতে নিয়ে কাটাতে হতো তিনটি সেশন। সময় কাটানোর জন্যই কিনা, নিজেদের স্বভাবসুলভ খেলা বাদ দিয়ে দিনের শুরু থেকেই অতিরিক্ত রক্ষণশীলভাবে খেলতে শুরু করলেন ব্যাটসম্যানরা। যা কিনা লঙ্কানদের সুযোগ করে দিল তাদের আরো ভালোভাবে চেপে ধরার। এই মনোভাবই সফরকারি দলটিকে ডুবিয়েছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেকরা। তবে সমালোচকদের সেই দাবি অস্বীকার করে, পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক বড় করে দেখছেন হেরাথের পারফরম্যান্সকেই। যদিও, ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে নিজেদের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। পাশাপাশি, এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কলম্বোতে আগামী ১৪ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন। প্রথম ইনিংসে সাড়ে চারশ’র বেশি রান করে হারতে হয়েছে এমন অভিজ্ঞতা পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা কোন দলেরই ছিল না। এই পরিসংখ্যানে যদি মিসবাহ পঞ্চম দিনের শুরুতে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েও থাকেন, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেটা উবে যেতে সময় লাগেনি তার। নয় উইকেট হাতে নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান দিনের শুরু থেকেই খেলতে থাকে অতিরিক্ত সাবধানী ভঙ্গিতে। রান করার চিন্তা বাদ দিয়ে উইকেটে টিকে থাকতেই বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ে তারা। আহমেদ শেহজাদ ১৬ রান করতে খরচ করেন ৭৪ বল, যার ৬২ টি ছিল ডট বল। ১৫১ বল খেলা আজহার আলী ডট বল খেলেন ১২৭টি ! ফলে, তাদেরকে আরো চেপে ধরতে উইকেটের কাছাকাছি ফিল্ডার বাড়ান লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। আরো বেশি আক্রমণাত্ম বোলিং করার সুযোগ পেয়ে যান হেরাথ-পেরেরারা। এই দুই লঙ্কান স্পিনারই সর্বনাশ করেন সফরকারিদের। প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষের আটটি উইকেট নেয়া দুই স্পিনার, দ্বিতীয় ইনিংসেও নেন আটটি উইকেট। প্রথম দফায় তিনটি উইকেট নেয়া হেরাথ, এবার ৪৮ রানের বিনিময়ে নেন ছয়টি উইকেট। ব্যাটিং লিজেন্ড ও পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক হানিফ মোহাম্মদ বলেন, চতুর্থ দিন শেষে যে অবস্থা ছিল তাতে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটলেই কেবল এ ম্যাচে কোন ফল হওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু রবিবার শেষ দিনে দারুণভাবে ম্যাচ জিতে নিয়েছে শ্রীলংকা। হানিফ বলেন, ‘পিচে এমন বিপদজ্জনক কিছু ছিলনা যে কারণে (তারা) এমন হতশ্রী ব্যাটিং প্রদর্শনী। আমাদের ব্যাটসম্যানরা রক্ষণাত্মক খেলেতে চেয়েছে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তাদের অবস্থা বুঝে খেলা উচিত্।’ তবে জয় শ্রীলংকার প্রাপ্য ছিল বলেও স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জয় শ্রীলংকার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু আমি মনে করছি পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের সত্যিই স্কোর বোর্ডের দিকে তাকানো উচিত্ এবং ভাল কিছু করার জন্য একটা উপায় বের করা উচিত্ ছিল। তারা টেস্ট ক্রিকেট খেলছে, ক্লাব ক্রিকেট নয়।’ চেহারায় হতাশা ফুটে ওঠা রমিজ টেলিভিশনে বলেন, পাকিস্তান এমন অবস্থার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ব্যাটিং করেছে। তাদের উদ্দেশ্যটা কি সেটাই বুঝা কঠিন। তাদের আরো ইতিবাচক হওয়া উচিত্ ছিল। শ্রীলংকা একটা জয়ের জন্য উদগ্রীব ছিল এবং ইনিংস ঘোষণার মত একটা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে।’ ২০১২ সালে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা মহসিন আলী বলেন, অবশ্যই খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার। ‘এখানে খুব বেশি নেতিবাচকতা ছিল। পাশাপাশি আক্রমণের অভাব তো ছিলই। যা দেখে একটা দল হিসেবে আমাদের অযোগ্য মনে হয়েছে।’ উইকেটে যে কোন রহস্যময়তা ছিল না সেটা স্বীকার করেছেন মিসবাহও। হেরাথের অভিজ্ঞতার কাছেই পরাস্ত হয়েছেন তার সতীর্থরা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে এই কন্ডিশনের সাথে খুব পরিচিত। বিশেষ করে গলে তার অতীত সাফল্য অসাধারণ। সে দারুণভাবে বলের গতি পাল্টেছে। বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন লেংথ ব্যবহার করছিল সে। তাই আমি বলবো তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এমন একটি উইকেট যেখানে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি কিছু ছিল না; সেখানে এমন বোলিং সত্যিই বিশেষ কিছু।’ ক্রিকইনফো