ভাষা সৈনিক, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রথম নারী অধ্যাপক প্রফেসর লায়লা নূর (৮৫) আর নেই। শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টায় কুমিল্লা নগরীর অশোকতলা প্রফেসর পাড়া এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে....রাজিউন)। মহীয়সী নারী এই নারী দীর্ঘদিন প্যারালাইজড ছিলেন। ভুগছিলেন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে।
লায়লা নূর কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামে ১৯৩৪ সালের ৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবু নাসের মোহাম্মদ নূর উল্লাহ ও মা সামছুন্নাহার মেহেদী। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
১৯৪৮ সালে এসএসসি, ১৯৫২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে স্নাতক এবং ১৯৫৬ সালে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভাষা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন সক্রিয় লায়লা নূর। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে লায়লা নূরসহ ২১ জন ছাত্রী গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২১ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছিলেন।
লায়লা নূর ১৯৫৬ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরে ১৯৫৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর শিক্ষকতার পর ১৯৯২ সালে তিনি অবসরে যান।
আরও পড়ুন: ৮ দিন বন্ধ থাকবে বুড়িমারী স্থলবন্দর, স্বাভাবিক থাকবে যাত্রী চলাচল
তিনি লেখালেখি করেছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে। ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন বিখ্যাত কবিদের লেখা ও কবিতা। আন্দোলন-সংগ্রাম, শিক্ষকতা আর লেখালেখিতে কেটে গেছে লায়লা নূরের জীবন। বিয়ে করা আর হয়ে ওঠেনি।
এদিকে, তার মৃত্যুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন শোক প্রকাশ করে আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। বিকালে নামাজে জানাজা শেষে তাকে নগরীর বাগিচাগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইত্তেফাক/অনি

