জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৩৫ হাজার ৯শ ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ি ২×৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্টসহ মোট ৩৭ হাজার ৩শ ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা মাতারবাড়ি বিদ্যুত্ প্রকল্পে সবচে বেশি অর্থের যোগান দেবে। জাইকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ২৮ হাজার ৯শ ৩৯ কোটি ৩ লাখ টাকা দেবে। এছাড়া সরকারি খাত থেকে ৪ হাজার ৯শ ২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং বাকি ২ হাজার ১শ ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুত্ বিভাগের উদ্যোগে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএস) কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নে জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে দেশের ইতিহাসে সবচে বেশি মূল্যমানের এ উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আগারগাস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, ভবিষ্যতে এখানে আরো দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হবে। এলএনজি টার্মিনাল হবে। মহেশখালীকে একটি পূর্ণাঙ্গ টাউনশিপ করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর, এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট অ্যাসেসমেন্ট সার্টিফিকেট দেয়ায় এর পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্ভাবনা নেই। অপরদিকে এ পাওয়ার প্ল্যান্টটি থার্মাল এফিসিয়েন্সির দিক থেকে পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ মানের। এর থার্মাল এফিসিয়েন্সি ৪১.৩ ভাগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেটা ৩৫ ভাগ, ভারতে ২৯ ভাগ, ইউকে, জার্মানী এবং ফ্রান্সে ৩৮ ভাগ, এমনকি খোদ জাপানেও ৪০ ভাগ। আমরা আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যে প্রথম পাওয়ার প্ল্যান্টটি সম্পন্ন হবে।
একনেক সভায় জানানো হয় পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান ২০১০ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুত্ উত্পাদনের ৫০% বিদ্যুত্ কয়লা থেকে উত্পাদন করা হবে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী মাতারবাড়িতে ২×৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সভায় জানানো হয় মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এ কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা হবে ৪১.৯৯% যা বর্তমানে বাংলাদেশের তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের গড় কর্মদক্ষতা ৩৪% থেকে অনেক বেশি।
এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুত্ কেন্দ্রের গড় কর্মদক্ষতা ৩৬% থেকেও বেশি। বেশি কর্মদক্ষতার টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে কম পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন হবে এবং কম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। ফলে বায়ু দূষণসহ পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব একেবারেই কম পড়বে। অধিকন্তু নাইট্রাস অক্সাইড-এর পরিমাণ রোধ করার জন্য লো রেট বার্নার স্থাপন করা হবে এবং দুই ধাপে তা প্রজ্বলন করা হবে। সালফার-ডাই অক্সাইড রোধ করার জন্য সাগরের পানিকে ডি-সালফারাইজেসন মেথড ব্যবহার করা হবে। অ্যাশ রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্টেটিক প্রিসিপিটেটর এ কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে।
সভায় আরো জানানো হয়, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র যেখানে কুলিং এবং স্টিম জেনারেশনের জন্য সমুদ্রের সারফেস ওয়াটার ব্যবহার করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিটে ৬০০ মেগাওয়াট কুলিং ওয়াটার স্টেশন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার ২টি স্টেক, আবাসিক-অনাবাসিক বিভিন্ন ধরনের ভবন নির্মাণসহ টাউনশীপ এলাকা গঠন, পানি শোধন ব্যবস্থাপনা, সাব-স্টেশন জেটি, অ্যাশ ডিসপোজাল এরিয়া, কয়লার বাফার জোন ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে।
সভায় অনুমোদনকৃত অপর ৪টি প্রকল্প হলো “হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবন মান উন্নয়ন” প্রকল্প, ‘‘যশোর সফ্্টওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (এসটিপি) স্থাপন (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প, “গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প’’ এবং “হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ পূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন” প্রকল্প। অনুমোদনকৃত ৫টি প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে ৫ হাজার ৬শ ৮৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়নে, ২ হাজার ১শ ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে এবং ২৯ হাজার ৫শ ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।
