গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ব্যর্থতার পর এবার বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা চীনের নানজিংয়ে যাচ্ছেন ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে। ১৭ আগস্ট গেমস শুরু হবে। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা দুর্ভাবনায় আছেন পদক জয় করতে পারবেন কিনা। গ্লাসগোতে শ্যুটিংয়ে রৌপ্য পদকটি ছাড়া উল্লেখ করার মতো কিছুই নেই। আর এই নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে। গেমসের নামে বিদেশ ভ্রমণের কথা উঠছে সেই পুরোন আদলে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দলের আকার ছোট করার কথা জানিয়েছেন বিওএ’র কর্মকর্তারা। গ্লাসগোর সমালোচনায় ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসের ক্রীড়াবিদরা মানসিক চাপে আছেন তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে। বলছেন পদক জয় করতে না পারলে তখন আরো বেশি কথা শুনতে হবে। ভারোত্তলক জহুরা আক্তার রেশমা রাকঢাক না করে বললেন, এখানে বলে গেলাম পদক জয় করবো। না করতে পারলে তখন সেটা নিয়ে কথা শুনতে হবে। আর তাই তো আমি আগেই কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। ভালো খেলাটা খেলতে চাই।’ রেশমার মতো অন্য ক্রীড়াবিদরাও ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্সটা আদায় করতে হলে সুযোগ-সুবিধাটাও তো দিতে হবে। ৪৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে অংশ নেয়া রেশমা বলছেন, ‘তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। ভালো-মন্দ খাবার ব্যবস্থাও নেই। আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন করার ব্যবস্থা নেই। সেই মানের কোচও নেই।’ রেশমার আক্ষেপের তালিকা আরো লম্বা, বলছিলেন, ‘মানসম্মত প্রশিক্ষণ ছাড়া কি করে পদক পাওয়ার প্রত্যাশা করি!’ আনসারের এই ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ তার ঝাঁঝালো কণ্ঠে উদাহরণ টেনে বললেন, ‘২০১৩ সালে ইয়ুথ অলিম্পিকে চীনের যে মেয়েটা ভারোত্তলনে প্রথম হয়েছিলেন, সে ১০২ কেজি ওজন তুলেছে। তারা যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা পায়, সে তুলনায় আমর কী-বা পাই। ওদের স্কুলগুলোতে ভারোত্তলনের সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। আছে জিমনেশিয়ামও। ওদের সাথে আমাদের কখনই তুলনা হয় না। এতসব প্রতিকুলতার মধ্যে কি করে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখি! তারপর আশা আছে ভালো কিছু করার। স্বর্ণ জিততে না পারলেও আমি আমার র্যাংকিং বাড়াতে চাই। সেই চেষ্টাই থাকবে।’
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দুই কোটি টাকা ব্যয় করে শ্যুটিংয়ে একটি রৌপ্য পদক পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৭-২৭ আগস্ট চীনের নানজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতেও ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা। হকি, সাঁতার, আরচ্যারী, শ্যুটিং এবং ভারোত্তলনে লড়বেন ক্রীড়াবিদরা। নানজিং যাওয়ার আগে হতাশায় ভুগছেন খোদ প্রতিযোগীরাই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দায়সারা অংশগ্রহণ লজ্জায় ডুবিয়েছে। অপরিকল্পিত খাতে টাকা ব্যয় এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। যার কারণে ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসেও পদক জয়ের প্রত্যাশা সেভাবে করতে পারছেন না ক্রীড়াবিদরা। রেশমার মতো একই সুরে কথা বললেন আরেক তরুণ সাঁতারু নৌবাহিনীর আসিফ রেজা। বাবা আনোয়ার হোসেন এবং মা মরজিনা দু’জনই সাঁতার কোচ। তাই পারিবারিকভাবেই সুইমিংয়ের সাথে জড়িয়েছেন আসিফ। ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে নিজের প্রত্যাশা নিয়ে আসিফ বলেন, ‘পদক জয়ের ব্যাপারে আমি ততটা আশাবাদী না। আমি আমার টাইমিংয়ের উন্নতি করতে চাই। এর আগে এশিয়ান ইয়ুথ গেমসের সেমিফাইনাল খেলেছি। নানজিংয়ে আমি সেমিফাইনালে খেলতে চাইবো।’ আসিফ বললেন, দেশের প্রতিযোগীদের সাথে লড়াই করে পদক জয় করা আর আন্তর্জাতিক আসরে লড়াই করার মধ্যে একটা বিরাট ফারাক রয়েছে। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো।’
নানজিংয়ে অলিম্পিক দেশগুলোর মধ্যে লড়াই হবে। এখান থেকে আগামীদিনের ক্রীড়াবিদরা উঠে আসবেন। অলিম্পিক গেমসের মতো বড় আসরে কারা দাপিয়ে বেড়াবেন। পদক জয়ের জন্য কাদের মধ্যে লড়াই হবে। সেই আভাস মিলবে ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে। প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির এমন আয়োজন। ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসের মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন, বলেছেন তারা সেরাটা দেবেন। এটাই সবার প্রত্যাশা।
