রুনা লায়লা

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২০:১৩
তারকাদের অজানা কথায় সবসময়। পাঠকের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। ইত্তেফাক পাঠকের সেই চাহিদাকে বিবেচনা করে এখন থেকে তারকার অজানা কথাই পাঠকের সামনে তুলে ধরবে। প্রথমেই আমরা এদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী রুনা লায়লার অজানা কথা পাঠকের সামনে তুলে ধরছি। লিখেছেন কবিতা আলী আমার বয়স তখন ৬ বছর। বাসায় গান শিখি। আমাদের পুরো পরিবারই তখন করাচিতে। বড় বোন দীনাও গান করে। ঢাকা ওল্ড বয়েজ এসোসিয়েশন নামে প্রতিষ্ঠান একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে দীনার গাইবার কথা। কিন্তু হঠাত্ করেই দীনার গলা খারাপ হয়ে গেল। অর্গানাইজাররা পড়ল বিপদে। ওরা আমাদের বাসায় এলে মা বলল দীনা না গাইতে পারলে রুনা গাক। এ কথা শুনে অর্গানাইজার দ্বিধায় পড়ে গেল যে এইটুকু মেয়ে কী গান গাইবে। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে আমি একটি ক্ল্যাসিকাল রাগ গাইলাম। সবাই দেখল ৬ বছরের একটি মেয়ে তানপুরা যার চেয়ে অনেক বড় সে বসে বসে গাইছে। গান শুনে শেষে সবাই খুশি, অ্যাওয়ার্ড পেলাম, সাথে কিছু ক্যাশপ্রাইজও। আমার বয়স যখন ৯ বছর তখন ইন্টার স্কুল মিউজিক কম্পিটিশন হয়েছিল রেডিও পাকিস্তানের উদ্যোগে। কিন্তু আমি ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রী বলে আয়োজকরা নিতে চাইল। তাদের কথা শুধু উর্দু মিডিয়ামের যারা তারাই অংশ নিতে পারবে। মা বলল, এ কেমন কথা। গান তো গানই, গানের আলাদা ভাষা আবার কী! শেষ পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে আমাকে গাইবার সুযোগ দেওয়া হলো এবং একটি গজল গেয়ে প্রথম হলাম। ওই সময় থেকেই গানের চর্চা আরও বেশি বেশি করে শুরু হলো। কিন্তু তখনকার সময়ে নাচ, গান, অভিনয়, এসব সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখত না। গানের পাশাপাশি আরেকটি শখ ছিল আর সেটা হচ্ছে নাচ। অনেকের কাছেই কথাটা নতুন শোনাবে হয়তো ছেলেবেলায় আমি নাচও শিখেছি। এক দু-বছর নয় চার বছর বুলবুল একাডেমী করাচিতে ভরত নাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শিখেছি। পাকিস্তানের তখনকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছিল লাহোরকেন্দ্রিক। একবার লাহোর থেকে একজন পরিচালক, প্রযোজক এবং সংগীত পরিচালক করাচি এলেন একটি চলচ্চিত্রে ১২ বছরের একটি ছেলের লিপে সুন্দর কণ্ঠ খুঁজতে। তারা গেলেন করাচি রেডিওতে। সেখান থেকে আমার কথা শুনলেন এবং বাবার অফিসের নম্বরে ফোন করলেন। বাবা তো কোনোভাবেই ফিল্মের গান করতে দেবেন না। ওনারা অনেক কষ্ট করে বাবাকে বুঝালেন যে আমরা আগে আপনার বাসায় আসি এবং একটু কথা বলি। মাও বলল আচ্ছা ঠিক আছে আসুক, দেখুক। ওইদিকে আমার তো খুব ইচ্ছে। রেডিওতে বড় বড় সব শিল্পীর নাম বলে, গান শুনি। মনে মনে ভাবতাম আমার নাম কবে বলবে? ওনারা বাসায় এলেন এবং আমার কণ্ঠ খুব পছন্দ হলো। কিন্তু প্লে-ব্যাকে গান গাওয়ার টেকনিক সম্পূর্ণ আলাদা বলে প্র্যাকটিস করতে বললেন। ওইদিকে বাসায় বাবা-মা ভাবলেন আচ্ছা ঠিক আছে, শখেই যখন করছে তখন একটা গান করুক। তারপর আমার শখও মিটে যাবে ওনাদের কাজটাও হয়ে যাবে। ওই একটা গানের জন্য ১ মাস সকাল বিকেল প্র্যাকটিস করি। স্কুলে যাওয়ার আগে ১ ঘণ্টা আর বাসায় ফিরে হোমওয়ার্ক শেষ করে ১ ঘণ্টা। অবশেষে এলো সে মাহেন্দ্রক্ষণ। রেকর্ডিং হলো আমার প্রথম গান ‘গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কী পেয়ারি’। ‘যুগ্মু’ ছবির ছিল গানটা।