দাদার বাড়ি বরিশাল। তাই ধানসিঁড়ি নদীর নামে মেয়ের নাম রেখেছি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২০:১৫
নচিকেতা চক্রবর্তী ঢাকায় ঘুরে গেলেন সম্প্রতি। একাধিক গানের রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি গাইলেন টিভি লাইভেও। সেই যাত্রাতেই পার্থ মজুমদারের স্টুডিওতে আড্ডা হলো শিল্পীর সাথে। আড্ডার কথাগুলো সাজালেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী মানিক মোমেনীন ১. ঢাকা ক্লাব। তার অপেক্ষায়। আমি আর ভিডিও নির্মাতা সৈয়দ আলী আহসান লিটন। হিরক দা জানালেন, গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত জেগেছেন উনি। তাই ঘুম থেকে উঠতে দেরি। ফ্রেশ হচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে নিচে নামবেন। ঠিক তিরিশ মিনিট পরে এলেন। আমার উচ্ছ্বাসভরা প্রশ্ন, দাদা কেমন আছেন? দাদা বললেন, ‘চলছে কেমন?’ :হ্যাঁ, ভালোই চলছে দাদা। এর মধ্যে কয়েকজন ফটোসাংবাদিক ঘিরে ধরেছেন তাকে। একের পর এক সেলুলয়েড ফিতায় বন্দী হচ্ছেন। অনেকে তার সঙ্গে গ্রুপ ছবিও তুলছেন। :চলুন, দাদা। খানিকটা দেরিই হয়ে গেল। স্টুডিওর শিফট অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। :চল্ চল্। কথা হচ্ছে নচিকেতা চক্রবর্তীকে নিয়ে। জীবনমুখী বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী। গাড়ি ড্রাইভ করছেন সৈয়দ আলী আহসান লিটন। নচি দা সামনের সিটে বসা। হিরক দা ও আমি পেছনে। নীরবতা ভাঙলেন নচিকেতা। বললেন, ‘এখন এখানে বাংলা গান কেমন হচ্ছে?’ গাড়ির সিডি প্লেয়ার অন করেন লিটন ভাই। ফুল ভলিউমে বাজতে লাগল, হাল সময়ের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান। নচি দা বললেন, ‘বাহ্। অসাধারণ গান। কলকাতা ফেল।’ কথার তুবড়ি উড়াতে উড়াতে আমরা পৌঁছলাম মগবাজারের অন্তরা স্টুডিওতে। সেথানে নচি দা গান গাইবেন। ২. এ যাত্রায় নচিকেতার সঙ্গে দ্বিতীয় বার দেখা হলো আরটিভির বেঙ্গল স্টুডিওতে। অনুষ্ঠানের নাম ১৩টা গান নিয়ে ‘বেস্ট অব নচিকেতা’। দাদা বললেন, ‘দেখ্ বারবার জনপ্রিয় গানগুলো আমি গাই। তবুও মনে রাখতে পারি না, ভুলে যাই। এটা একটা দুর্বলতা। আর আমি কিন্তু আমার গানগুলোর নাম ‘জীবনমুখী’ দিইনি। শ্রোতারাই নাম দিয়েছে ‘জীবনমুখী গান’। শুনতে ভালোই লাগে। :গান নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা? :গজল নিয়ে কিছু এক্সক্লুসিভ পরিকল্পনা আছে। আর যেভাবে চলছে চলুক না, ভালোই তো। এই বেশ ভালো আছি। ক’দিনই বা আর বাঁচব। পাঠক, আপনাদের জানিয়ে রাখি, কিছুদিন আগে নচিকেতার ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে আনন্দের কথা, ইতোমধ্যে সেই ক্যান্সারের সাকসেসফুল অপারেশনও হয়েছে। ৩. সন্ধ্যায় আমরা ক’জন হাজির হলাম গুলশানের এক বাসায়। ঢাকা ক্লাব ছেড়ে দিয়েছেন। নচি দা উঠেছেন ওই বাড়িতে। দরজা খুলতেই তার দেখা। :আরে, অবশেষে তোরা এলি! :হ্যাঁ, দাদা। ঘরভর্তি মানুষ। সাংবাদিক, শিল্পী, বহুজাতিক কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরাও আছেন। :দাদা, আপনার দেশ তো আমাদের টিভি চ্যানেল দেখায় না! :এটা খুব দুঃখজনক। আর আমি তো নিজেকে বাংলাদেশের মানুষ মনে করি। তোরা আমাকে রেখে দে, আমি থেকে যাই। আমার দাদার বাড়ি তো বরিশাল। ধানসিঁড়ি নদীর নামে আমি আমার একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছি। আমি এ টু জেড হুমায়ুন আহমেদ পড়েছি। আমি জানি বাংলাদেশটা কেমন। রুনা লায়লার গানের আমি অন্ধ ভক্ত। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরকে নিয়ে আমি একটা গানও লিখে ফেলেছি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে আমার নাড়ীর যোগাযোগ। ৪. রাত বাড়ছে কথা চলছেই। এক পর্যায়ে নচি দা বললেন, এবার তোরা যা। সমৃদ্ধ স্মৃতি নিয়ে ফেরার পথে পা বাড়ালাম। ৫. নচিকেতার ফ্লাইট ফাইনাল হয়ে গেছে। ফোন করলাম মুঠোফোনে। :হ্যাঁ, আজ রাতে চলে যাচ্ছি। :আসব? একটা নতুন গান করে দিতে হবে। :আয় আয়। দেরি না করে রওনা হলাম গুলশানে। নচিদা খানিকটা ক্লান্ত। :তোরা বোস। কাগজ-কলম নিয়ে চলে গেলেন। দশ মিনিট পর এলেন নতুন গান নিয়ে। গানটির নাম, ‘কলেজ লাইফ’। দাদা হারমোনিয়াম বাজিয়ে তাত্ক্ষণিক সুর করে দিলেন। তৈরি হলো চমত্কার একটি গান। একজন কিংবদন্তির একটি সৃজণশীল কাজের আঁতুড়ঘরের সাক্ষী হলাম আমরা। প্রথমবারের মতো গানটিতে তিনি বললেন, তার কলেজ লাইফের বান্ধবী মোনাইয়ের কথা। :দাদা যাই তাহলে? :যাই কেন? বারবার ফিরে আয়। ভালো থাকিস। মনে রাখিস, ভালো থাকতে পারাটাই বড় কথা। যেখানেই থাকবি ভালো থাকবি। প্রবল প্রতিকূলেও হাল ছাড়বি না। দেখা হবে।