বহুদিনের প্রচলিত কথাই হয়ে গেছে এটা, আমাদের দেশীয় সিনেমা নাকি চলে না অর্থাত্ দর্শক নাকি দেখেন না। একটা গোষ্ঠী আছে যারা নিজেরা কখনও সিনেমা হলে যান না কিংবা কখনোই দর্শকদের এই সময়ের সিনেমা দেখার অনুপ্রেরণাও দেন না। কিন্তু ইত্তেফাক অনেক বছর আগে থেকেই বাংলা সিনেমার পক্ষপাতী। দর্শকদের বারবার অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে সিনেমা দেখার। এবার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হানিমুন’ সিনেমা নিয়ে লিখেছেন সেলিনা আক্তার শেলী
আমরা বারবার আমাদের বর্তমান চলচ্চিত্রের কাহিনী কিংবা কাহিনীকারের দোষ দিয়ে আসছি। যার ফলে বারবার আমরা বলতে শিখেছি, ‘এই সময়ের ছবির গল্প ভালো না কিংবা এই সময়ের ছবির গল্প নকল।’ আবার আমাদের দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ছবির নির্মাতাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন কাহিনীকার আব্দুল্লাহ জহির বাবুর উপর। সেই ধারাবাহিকতায় সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘হানিমুন’ ছবির কাহিনী আব্দুল্লাহ জহির বাবুরই লেখা। বিদেশি ছবির নকল কিংবা বেশ ক’টি ছবির কাহিনীর অনুকরেণ ‘হানিমুন’ লেখা কিনা এই তর্কে একদমই যাচ্ছি না আজ। কারণ আজ শুধু আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে যেসব সিনেমা নির্মিত হচ্ছে তাতে অনুপ্রেরণা দেওয়া থেকে দূরে থেকে আমরা বরং নির্মাতা কিংবা প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধেই বেশি কথা বলেছি কিংবা লিখেছি। তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ক্ষতিটা আমাদেরই হচ্ছে। বারবার ‘কলকাতার’ ছবির উদাহরণ টেনে বলা হয় যে তাদের ছবির ভাষা যেমন পাল্টেছে নির্মাণশৈলীতেও এসেছে পরিবর্তন। কিন্তু একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে কলকাতার ছবির বাজেট এখন দশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই-ই নয় ইচ্ছে হলেই তারা মুম্বাই থেকে টেকনিশিয়ান এনে কাজ করাতে পারে। যেটা আমাদের দেশের নির্মাতাদের খুব সহজেই সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও নির্দিষ্টতার মধ্যে আমাদের দেশের নির্মাতারা যা নির্মাণ করছেন তাও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ এবং বেশ সময়োপযোগী ছবি। ‘হানিমুন’ একটি সময়োপযোগী ছবি। ছবির প্রধান কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসান ইমাম, আহমেদ শরীফ, মাহিয়া মাহি এবং বাপ্পী সাহা। ছবির গল্প ‘সিম্পল’ একটি গল্প। তন্দ্রা (মাহি) তন্দ্রা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তাকেই ভালো লেগে যায় রুশোর (বাপ্পী সাহা)। নানান ধরনের গল্পে ছবির কাহিনী যখন সামনের দিকে এগিয়ে যায় তখনই আবিষ্কার হয় তন্দ্রা মূলত রুশোকে ভালোবাসে না। এতদিনের লুকোচুরি করে হানিমুন করা ছিল শুধুই অভিনয়। তবে শেষ পর্যন্ত তন্দ্রা তার সত্যিকারের ভালোবাসা রুশোকে নিয়েই হানিমুনে যায়। খুব সাধারণ একটি গল্প নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘জাজ’ হানিমুন ছবিটি নির্মাণ করেছে। পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফি সত্যিই চেষ্টা করেছেন শেষ থেকে শুরু পর্যন্ত দর্শকের মাঝে ছবিটি দেখার কৌতূহল ধরে রাখতে। আমাদের দেশীয় সিনেমায় নতুন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাহিয়া মাহি। নতুন অনেকেই এসেছেন। কিন্তু মাহির অভিনয়ের কাছে অন্যদের খুব কাছে পাওয়াটাও যেন কল্পনাতীত। বাপ্পী সাহা অভিনয়ে আগের চেয়ে নিজেকে যথেষ্ট দক্ষ প্রমাণ করেছেন। ছবির প্রতিটি গানই হয়েছে যথেষ্ট শ্রুতিমধুর। বিশেষ করে সাইমনের (শওকত আলী ইমনের গাওয়া) গাওয়া ‘মন তোরে’ গানটি যে কোন দর্শকেরই ভালোলাগারই মতো। সব মিলিয়ে ‘হানিমুন’ ব্যবসাসফল, দর্শকের রায়ে সেরা ছবির একটি। অবশেষে শুধু বলতে চাই সিনেমা হলে দর্শক ঠিকই যেতে চান। কিন্তু হলের পরিবেশই আসলে অনুকূলে নেই। একজন সাংবাদিক নয়, একজন দর্শক হয়েই আমি ‘হানিমুন’ সিনেমাটি কষ্ট করে ছাড়পোকার কামড় সহ্য করে মধুপুরের কল্লোল সিনেমা হলে উপভোগ করেছি। সিনেমার দর্শক ফেরানোর জন্য হলের পরিবেশটা উন্নত করার ভীষণ জরুরি।
