‘মনপুরা’র পরী, শুধু এতটুকু বললেই তাকে খুব সহজেই চেনা হয়ে যায়। আর তেমন কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি ফারহানা মিলি। দর্শকের প্রিয় একজন অভিনেত্রী। পর্দায় মিলি যেমন বলা যায় বাস্তব জীবনেও মিলি ঠিক কাছাকাছি রকম এমনই। এই সময়ে নাটকে অভিনয় নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। ‘তারার সাথে একদিন’-এ আজ পাঠককে শুনাবো ফারহানা মিলির গল্প। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি
ঈদের মাত্র কয়েকটা দিন পরেই পরিচালক আলভী আহমেদ ফারহানা মিলিকে নিয়ে শুরু করেন তার নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘শূন্য থেকে শুরু’র কাজ। এবার শুটিং লোকেশন ছিল পূবাইলের হাসনা হেনা। মিলির সঙ্গে কথা বলতে শুটিং শেষে ফিরতি পথে রাজধানীর উত্তরা থেকে তার সঙ্গী হলাম। ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ হতেই জিজ্ঞেস করি কেমন কাটলো এবারের ঈদ। জবাবে মিলি বলেন, ‘রুসলানকে (মিলির একমাত্র সন্তান) নিয়েই কেটেছে আমার ঈদ। কাজের আগে কিংবা পরে রুসলান ছাড়া আমার আর তেমন কোনো ভাবনা নেই। এরপর যতটুকু সময় অবসর মিলে হাতে আসা স্ক্রিপ্ট পড়ার চেষ্টা করি। যেমন এখনও কয়েকটি স্ক্রিপ্ট হাতে আছে। কাজের ব্যস্ততার কারণে পড়ার সুযোগও পাচ্ছি না। তারপরও সবমিলিয়ে ঈদ আর আমি—এইতো ভালোই ছিল।’ ‘মনপুরা’র পর আর কাজে না ফিরলেও দর্শক আপনাকে মনে রাখত, এটা বিশ্বাস করেন? ‘মাঝে মাঝে বিশ্বাস করি। কারণ আমার ভীষণ প্রিয় একজন অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির। তিনিও আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’সহ আরও বেশ ক’টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তিনি যদি ‘সীমানা পেরিয়ে’র পর আর অভিনয় নাও করতেন দর্শক তাকে মনে রাখতেন ওই একটি ছবি দিয়েই। অনেকের মতে ‘মনপুরা’ মাইলফলক ছবি। হয়তো আমাকে মনে রাখতো ওই একটি ছবির কারণেই যদি আমি পরে আবার অভিনয় নাও করতাম’, বললেন মিলি। সিনেমার ‘পরী’ কিংবা নাটকের ফারহানা মিলি গল্পের প্রয়োজনেই অনেক সময় শান্ত আর বিনয়ী হিসেবেই বারবার ফুটে উঠেছে। বাস্তবেও কী এমনই আপনি? প্রশ্নটা শুনে মিলি মুদৃ হাসি দিয়ে বলে উঠেন, ‘আসলে আমি আমারই মতো। কারো মতো নই। তবে আমার শিক্ষা, আমার পরিবার আমাকে যেমনভাবে গড়ে তুলেছে আমি ঠিক তেমনিভাবেই গড়ে উঠেছি। আমি খুব সাধারণ জীবন যাপন করার চেষ্টা করি। বিনয়ী কিনা জানি না তবে সবসময়ই শান্ত থাকার চেষ্টা করি। আসলে এটা সবচেয়ে বেশি ভালো বলতে পারবেন যারা আমার সঙ্গে কাজ করেন কিংবা আমার সঙ্গে যাদের উঠবস আছে।’ আবার পুরোনো প্রসঙ্গে, ছবিতে আর ফিরছেন না? ‘কে চায় না ভালো গল্পের ছবিতে কাজ করতে বলুন? আমারও ইচ্ছে আছে ভালো গল্পের ছবিতে কাজ করার। ‘মনপুরা’ যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে আমাকে তার সমপরিমাণ যদি আবার না দিতে পারি তারচেয়ে বরং এই ভালো নয় কী না-ইবা করলাম আর নতুন ছবি!’ আপনিতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক নাট্যতত্ত্বের ছাত্রী। সহপাঠীরা অনেকেই নির্দেশনায় আসছেন, আপনার কোনো সম্ভাবনা? ‘ইচ্ছে যে নেই তা কিন্তু নয়। তবে সত্যি বলতে কী অভিনয় আর সংসার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে এর বাইরে নির্দেশনা নিয়ে ভাবার সময়ও নেই, সুযোগও নেই। ভবিষ্যতের কথা আপাতত নাইবা বললাম।’ বহুদিন পর বিবিসির একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন আপনি, কেমন লাগল? কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন? ‘অনেক মনোযোগ দিয়ে কাজটি করেছিলাম। আমার নিজের বেশ ভালো লেগেছিল। রেসপন্স অনেক বেশিই পাচ্ছি। যারা আমাকে নিয়ে কাজটি করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ ফারহানা মিলি এমনই একজন অভিনেত্রী নিজের কাজের জন্য কারো সাথে যোগাযোগ স্থাপনের বাড়তি চেষ্টাটা কখনোই করেন না। গল্পের প্রয়োজনে যদি পরিচালক মনে করেন তাকে প্রয়োজনে তিনি শুধু তখন তাতে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। মিলি এ কারণেই অন্য অনেকের চেয়ে ব্যতিক্রম। শুভ কামনা মিলির জন্য ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে।
