‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে চাই নারীর কাজের মূল্যায়ন’

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৯
ধান বোনা থেকে শুরু করে তা গোলায় উঠা পর্যন্ত ২৪টি কাজের মধ্যে ১৭টি কাজই করে নারী। অথচ সেই কাজের স্বীকৃতি নেই। নেই আর্থিক মূল্যও। এ সব গৃহস্থালী ও অ—অর্থনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে নারীর অবদানকে মূল্যায়ন করে জিডিপিতে সংযুক্ত করা হলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে ‘গৃহস্থালী কাজ, যা যায় না দেখা’ শীর্ষক পোস্টার ডিজাইন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্য সহিংসতা, সমতা আসবে যদি মানুষের মনের পরিবর্তন হয়। বক্তারা বলেন, গৃহস্থালী কাজে নারীর অবদানকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র শ্রম হিসেবে মূল্যায়ন করে। অথচ একজন নারী গড়ে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা সময়ে প্রায় ৪৫ ধরনের কাজ করে থাকে। নারীর পারিবারিক বা গৃহস্থালী কাজকর্ম অদৃশ্য ও মজুরিহীন বলে শতাংশ নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল্য কখনও পরিমাপ করা হয় না। অনুষ্ঠানে জানান হয়, এখনও ৮০ শতাংশ নারী, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দ্বারা সহিংস আচরণ, শোষণ, বৈষম্য ও অমানবিকতার শিকার। এই অদেখা, অদৃশ্য কাজকে দৃশ্যমান করতে ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যৌথভাবে এই প্রচার অভিযানের আয়োজক মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। ‘গৃহস্থালী কাজ, যা যায় না দেখা’ শীর্ষক এই পোস্টার ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রথম হন বিশ্বজিত্ গোস্বামী। পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় একটি ল্যাপটপ ও সনদপত্র। দ্বিতীয় হয়েছেন অনুকূল চন্দ্র মজুমদার। তাকে দেয়া হয়েছে একটি ট্যাব ও সনদপত্র। তৃতীয় হয়েছেন সৈয়দ জাহিদ ইকবাল। তিনি পেয়েছেন একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও সনদপত্র। এ ছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত বিজয়ীকে বই উপহার দেয়া হয়। এ পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। এ সময় প্রতিযোগিতার তিন বিচারক চিত্রশিল্পী রতন মজুমদার, শিশির ভট্টাচার্য ও মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত নাট্যনির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।