প্রায় তিনশ’ লরি নিয়ে রাশিয়ার ত্রাণবহর শর্তসাপেক্ষে ইউক্রেন সীমান্ত অতিক্রম করার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে রুশপন্থিদের নিয়ন্ত্রিত দোনেস্ক শহরে প্রচণ্ড গোলা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকতেই ত্রাণবাহী লরির চাপে সীমান্ত পারাপারের সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এসব ত্রাণ ঢুকতে না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও ওইদিন কিয়েভ বলেছে, শর্তসাপেক্ষে ত্রাণবাহী লরিগুলোকে ইউক্রেনে প্রবেশের অনুমোদন দেয়া হতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বলেন, পর্যবেক্ষকদের দ্বারা পরীক্ষা করার পর পূর্ব ইউক্রেনের পাঠানো এই ত্রাণ নিকটতম সীমান্ত ফাঁড়ি অতিক্রমের অনুমতি পাবে। তিনি জানান, এরপর মিশনটিকে বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত ভূ-খণ্ডের মধ্যদিয়ে লুহানস্কে যেতে দেয়া হবে। সেখানে রেডক্রস বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবে। তবে ত্রাণবহর নাকি কেবল এগুলোতে থাকা ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। রেডক্রস বলেছে, ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষেরই সীমান্ত অতিক্রম পদ্ধতি শিথিল করতে হবে। এর আগে ইউক্রেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, রাশিয়া ত্রাণের আড়ালে সামরিক সহায়তা নিয়ে পাঠাচ্ছে। তবে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এরই মধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সংকট ঘনীভূত হতে থাকায় প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর দপ্তর থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, রাশিয়ার ‘ব্যাপকতর আগ্রাসন’ এড়াতে এই ত্রাণবহর ঢুকতে দেয়া যেতে পারে। রাশিয়ার এই ত্রাণবহরটি গত মঙ্গলবার মস্কো থেকে পূর্ব ইউক্রেনের লুহান্সকের উদ্দেশে রওনা হয়।
এদিকে, রুশ-পন্থিদের নিয়ন্ত্রিত দোনেত্স্ক শহরে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড গোলা হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনী শহরটি অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালানোয় আতঙ্কে পালাচ্ছে দোনেেস্কর অধিবাসীরা। জাতিসংঘ বলেছে, গত দুই সপ্তাহে সেনা-বিদ্রোহী সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে তা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, সীমান্তে রাশিয়া ৪৫ হাজার সেনা সমাবেশ করেছে বলে ইউক্রেন সরকার অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগের পর ন্যাটো বলেছে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
