শেকৃবির এক পঞ্চমাংশ আসন থাকে খালি

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:০১
ভর্তি পরীক্ষায় অপেক্ষমাণ তালিকা না থাকার জের রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীদের এক-পঞ্চমাংশ আসন খালি পড়ে আছে। এসব আসনের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতির ফাঁদে পড়ে ফাঁকা পড়ে থাকছে। প্রতিবছর স্নাতক প্রথম বর্ষে নবীন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর নিজেদের পছন্দমতো অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে তৈরি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে দ্বিতীয়বার ভর্তির কোন সুযোগ না থাকায় যথারীতি খালি পড়ে থাকে আসনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, কৃষি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং পশু চিকিত্সা ও প্রতিপালন এই তিন অনুষদে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ৫০০ শিক্ষার্থী। বর্তমানে ওই শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৭৭ জন। মোট আসন খালি ১২৩টি, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৫ ভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থীর আসনসংখ্যা ২ হাজার ৩০০। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন ১ হাজার ৮৪৮ জন। খালি পড়ে আছে ৪৫২টি আসন, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত এ আসনগুলো নানা কারণে খালি হয়ে যায়। তবে এর বেশির ভাগ আসন খালি হয় প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার সময়। ওই সব আসনের শিক্ষার্থীদের নাম ক্লাস খাতায় ঝুলে থাকে বছরব্যাপী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন অনুষদে স্নাতক প্রথম বর্ষে নতুন শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অনুষদে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। গত বছর ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে এ আসনগুলোর বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় ১৫ হাজার ৯৪৬ জন প্রতিযোগী আবেদন করেন। একটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রায় ২০ ভাগ ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর নিজেদের পছন্দমতো অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে চলে যান এমন চিত্রই দেখা যায় প্রতিবছর। দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির কোনো সুযোগ না থাকায় খালি পড়ে থাকে এ মূল্যবান আসনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৫০০ জনের মেধাতালিকা এবং ৫০০ জনের অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে ৫০০ জনের মেধাতালিকা থেকে ভর্তি হওয়ার পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ৫০০ জনের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয় না। তিনদিনের মধ্যেই এই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব আনুয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তি কমিটির সভায় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির দ্বিতীয় কোন সুযোগ রাখার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। উপাচার্য বিষয়টি পজেটিভ হিসেবে নিয়েছেন। ভর্তি প্রতিযোগিতার এই যুগে এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।’