আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হত্যার নেপথ্যে
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবীর হত্যাকাণ্ডের ছয়দিন পার হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। খুনের রহস্য উদঘাটনেও নেই অগ্রগতি। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ ও কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দেয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এই দু’টি দিক সামনে নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গত ৯ আগস্ট মধ্যরাতে আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজার বস্তি সংলগ্ন শাপলা হাউজিংয়ের নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন জাহাঙ্গীর কবীর। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করায় চারদিন পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত করছেন শেরে বাংলা নগর থানার এসআই আহাদ আলী। ঘটনার রাতে জাহাঙ্গীর কবীরের বাসার সামনে দু’জন হাফপ্যান্ট পরিহিত যুবক সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করছিল। রাত সোয়া ১১টার দিকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে স্ত্রী পারভীনসহ গাড়িতে করে বাসার সামনে আসেন জাহাঙ্গীর। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় ওই দুই যুবক। এ সময় জাহাঙ্গীর গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারাও পিছু নিয়ে দুই তিন রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
দলীয় কর্মীদের ধারণা, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার কারণেও তিনি খুন হতে পারেন। তবে তারা নিশ্চিত করে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয়রা জানান, এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা এবং ঠিকাদারি কাজ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। কোরবানির পশুর হাট ইজারা নেয়াকে কেন্দ্র করে তা তীব্র হয়েছে। এ বছর জাহাঙ্গীরের কোরবানির পশুর হাট পাওয়ার কথা ওঠায় প্রতিপক্ষরাও তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে খুনের ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
জাহাঙ্গীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে গুম হওয়া আগারগাঁও এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা হাজী নূর মোহাম্মদের জামাতা। হাজী নূর মোহাম্মদ গুম হওয়ার পর তার ব্যবসা ও এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন জাহাঙ্গীর। তিনি স্থানীয় বিএনপি বাজারের সমবায় সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আহাদ আলী জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
