পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে যোগ দেয়া ইমরান খান শনিবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি তার হাজার হাজার সমর্থকের সঙ্গে ইসলামাবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
খান বলেন, ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শরীফ ক্ষমতায় আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নগরী লাহোর থেকে আসা বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার পর এক সমাবেশে ইমরান খান বলেন, তিনি অবস্থান ধর্মঘট করবেন এবং শরীফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
রাজধানীতে এসে পৌঁছানোর পর শনিবার ভোরের দিকে ইমরান খান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশবাসীর এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করবো। আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে চাই না যিনি নির্বাচনের কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন।’ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করতে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে ‘লংমার্চের’ চূড়ান্ত রূপ। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নগরী লাহোর থেকে বৃহস্পতিবার এ লংমার্চের যাত্রা শুরু করা হয়।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন নগরী হয়ে রাজধানী পৌঁছায়। এতে তাদের ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। সেখানে তাদের উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়।
ইমরান খান বলেন, ‘নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে আমরা নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টে যাই। সেখানে আমরা ন্যায় বিচার না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচার পেতে রাজপথে নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেই।’ এদিকে ইমরান খানের পাশাপাশি বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা তাহির-উল-কাদরি সরকার পতন আন্দোলনে তার হাজার হাজার অনুসারীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সরকার পতন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খান ও কাদরি ইসলামাবাদে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার ইসলামাবাদের প্রায় ২শ’ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গুজরানওয়ালা শহরে শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এনের (পিএমএল-এন) সমর্থকদের সাথে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
