জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসংখ্য সংগঠন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত্ বার্ষিকীতে মিথ্যা জন্মদিন পালন করায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি ঘৃণা-ধিক্কার জানান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার শপথ নেন তারা।
ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোক চিত্র প্রদর্শনীর গতকাল ছিল শেষ দিন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষ এ আলোকচিত্র দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। অপলক দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ জামিল আহসান। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। তিনি চোখ মুছতে মুছতে অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, যিনি দেশের স্বাধীনতা এনে দিলেন সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এটা বাঙালি জাতির জন্য লজ্জা ও কলঙ্কের। জাতির পিতার শাহাদাত্ বার্ষিকীতে মিথ্যা জন্মদিন পালনের নামে যারা উল্লাস করেন তাদের প্রতি ঘৃণা-ধিক্কার জানিয়ে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানান তিনি। এ সময় অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি অনেকে।
দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘শেখ রাসেল শিশু সংসদ কমিটি’র উদ্যোগে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জাতীয় শোক দিবসে কেক কাটা বঙ্গবন্ধু হত্যা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। এটা জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে জিয়া যেভাবে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেছিল, খালেদা জিয়াও এখন সেই কাজটিই করছেন।
শেখ রাসেল শিশু সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. সুলতানা শফীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম আখতার হোসেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মোশারফ হোসেন, ঢাকা বধির স্কুলের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
আওয়ামী তরুণ লীগ কদমতলী শাখার উদ্যোগে গতকাল জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। পূর্ব কদমতলীর সলিমুল্লাহ সেলিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আওয়ামী তরুণ লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রিপন সিকদার, তরুণ লীগ কদমতলী শাখার সভাপতি শাহাবুদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আলাউদ্দিন বাবু বক্তব্য রাখেন।
