মোবাইল ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন বাতিল বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে প্রাইম ব্যাংক। এ বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ না হলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। গভর্নরের নির্দেশে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এ চিঠি দেয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে।
গত ৬ আগস্ট প্রাইম ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনাদের মনোনিত সলিউশন প্রোভাইডার এসএমজি ইনফোকম লিমিটেডের সংঘটিত অনিয়মের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস নীতিমালার অনুসারে প্রদত্ত সেবার অনুমোদন প্রত্যাহার করা হলো। তবে এরপর ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি, বক্তব্য ও বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়, মোবাইল ব্যাংকিং লাইসেন্স বাতিল শীর্ষক সংবাদ তথ্যভিত্তিক নয়। একই ধরনের বক্তব্য পাঠানো হয় বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে। সেখানে অবশ্য বলা হয়েছে, এসএমজি ইনফোকম লিমিটেডের আর্থিক অনিয়মের কারণে এসএমজি ইনফোকমের সঙ্গে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রচলন সংক্রান্ত অনাপত্তি বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রাইম ব্যাংকের বিভ্রান্তি ছাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে তা বন্ধের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আপনাদের বক্তব্য ও বিজ্ঞাপন বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এ প্রচারণা বন্ধ না হলে আপনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, ‘ইজি ক্যাশ’ নামে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেয় প্রাইম ব্যাংক। পরে এ সেবা বাস্তবায়ন করতে সলিউশন প্রোভাইডার এসএমজি ইনফোকম লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি প্রাইম ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে মোটা অংকের জামানত নিয়ে প্রায় দুই হাজার ৫০০ এজেন্ট নিয়োগ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জামানত হিসেবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা নেয় প্রাইম ব্যাংক। যদিও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে তারা জামানত হিসেবে দিয়েছে ছয় কোটি ৬১ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্টে এ খাতে ১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা নেয়ার তথ্য রয়েছে। এরপর হঠাত্ উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিপাকে পড়ে আড়াই হাজার এজেন্ট। এসব এজেন্ট প্রাইম ব্যাংকের কাছে গেলে তারা দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে প্রাইম ব্যাংক আবারো এসএমজি ইনফোকম লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাদের মূল কোম্পানি ইউনিট্রেন্ড নেটওয়ার্কের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেয়ার জন্য চুক্তি করে। এ অবস্থায় প্রাইম ব্যাংককে এসএমজি ইনফোকম লিমিটেডের এজেন্টদের অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে প্রাইম ব্যাংক অর্থ ফেরত না দিয়ে দায় অস্বীকার করে। এসব কারণে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস নীতিমালার ৭ ধারার এক দশমিক অনুচ্ছেদ অনুসারে সেবার অনুমোদন বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
