দুই টেস্টে ৩৩ আর তিন ওয়ানডেতে ১৫—২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে এমনটাই ছিল বাংলাদেশের স্পিনারদের উইকেট সংখ্যা। এবারো তাই বাংলাদেশি স্পিনারদের নিয়েই বেশি ভাবছে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা।
বাংলাদেশ অবশ্য স্কোয়াডে পেসারদের দিকেই বেশি জোর দিয়েছে। স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন চার জন পেসার—আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। হালকা বৃষ্টির সাথে একটু গরম আর আর্দ্রতা মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিবেশটা মোটামুটি পেস বোলিংয়ের জন্য দারুণ সহায়ক।
তবে চারজন পেসার দলে থাকার পরও অন্যান্য সময়ের মত এবারো বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হল স্পিনাররা। নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে নেই সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালের সেই সিরিজে দুই টেস্টে সাকিব একাই নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। এমনকি ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজেও নিয়েছিলেন ছয়টি উইকেট। তাই সাকিব না থাকাটা অবশ্যই বাংলাদেশ দলের জন্য বড় একটা ধাক্কা।
বাংলাদেশের জন্য সাকিব না থাকাটা যেমন বিপদের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ঠিক তার উল্টো। তারপরও বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণকে বেশ সমীহর চোখেই দেখছে দলটি। টেস্ট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ক্রেইগ বার্থওয়াইট বার্বাডোস টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ওদের স্পিন আক্রমণটা ভাল। সবসময় তাই ওদের বিপক্ষে শতভাগ সফলতা আসবে না। এরপরও আমরা নিজেদের শতভাগ দেয়ার জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’
সম্প্রতি ২২ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান ৫০ ওভারের সাগিকর কাপ টুর্নামেন্টে ছয়টি সেঞ্চুরি করেন। বার্বাডোজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এ কীর্তি গড়েন। এর আগে সর্বোচ্চ পাঁচটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাবেক ওপেনার ফিলো ওয়ালেস, রোমেল কারেন্সি ও ডোয়াইন স্মিথ।
কিন্তু সেই টুর্নামেন্টেও তার স্পিন দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুটি টেস্ট দিয়ে তিনি সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনার কথা বললেন, ‘স্পিনারদের বিপক্ষে ভাল করার জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করছি। যে করেই হোক নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছি। সমস্যাটা হল আমাদের আত্মবিশ্বাসে। একবার আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্পিনারদের মোকাবিলা করতে পারলেই মনে হয় সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে।’
বার্থওয়াইটের ভাবনা সম্পূর্ণ টেস্ট ম্যাচ কেন্দ্রিক। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো ভাবছে ওয়ানডে নিয়েই। কারণ, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে মুশফিকদের ক্যারিবিয়ান সফর। গতকাল গ্রেনাডায় শুরু হয়ে গেছে সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ।
সেখানেও পেসারদের পাশাপাশি বড় একটা ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন স্পিনাররাই। সাকিব না থাকলেও আছেন আব্দুর রাজ্জাক ও সোহাগ গাজি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বরাবরই সফল রাজ্জাক। ১৩টি ওয়ানডেতে তিনি নিয়েছেন ১৮ উইকেট। দু’বছর আগে বাংলাদেশের মাটিতে দু’দলের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১০টি উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় শীর্ষে। এই সিরিজে সোহাগ গাজীও নিয়েছিলেন নয়টি উইকেট।
এবারো তেমন কিছু ঘটলে লাভবান হবে বাংলাদেশই!
