ইরাকের মসুলে বাঁধ পুনরুদ্ধারে মার্কিন স্বার্থ জড়িত :ওবামা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৭
ইরাকের মসুল শহরে দেশটির সবচেয়ে বড় বাঁধ আইএস (ইসলামিক স্টেট) জঙ্গিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পিছনে মার্কিন স্বার্থ রয়েছে। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসের কাছে এক চিঠিতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাঁধ রক্ষায় ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করা তাদের নিজেদের স্বার্থের মধ্যেই পড়ে। কেননা সেটি রক্ষা করা না গেলে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও তাদের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। এদিকে জঙ্গিদের সরিয়ে মসুলে ইরাকের সবচেয়ে বড় বাঁধটি কুর্দি যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানা গেছে। বারাক ওবামা বলেন, পরিস্থিতির বাস্তবতায় সেখানে তাদের মিশন প্রয়োজনে সীমিত করে আনা হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে শেষমেষ ইরাক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়ে বলেন, মসুল বাঁধ ইরাকের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। কেননা এটির সঙ্গে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও সর্বোপরি তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। এছাড়া বাঁধটি জঙ্গিদের দখলে চলে গেলে তারা তার অপব্যবহারের মাধ্যমে সেটি খুলে দিয়ে ভাটি অঞ্চলের মানুষকে কৃত্রিম বন্যাসহ নানা সমস্যায় ফেলতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রবিবার ১৪ দফা সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সেদিন জঙ্গিদের বেশকিছু গাড়ি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়। জঙ্গি দমনে মার্কিন বাহিনী কুর্দি পেশমের্গা বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে। কুর্দি কর্মকর্তারা জানান, তারা বাঁধ থেকে মাইন ও ফাঁদ (বু্বি ট্র্যাপ) সরানোর চেষ্টা করছেন। তারা আরো জানান, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভূমি থেকে বিমান হামলার বিষয়ে সমন্বয় সাধনের কাজ করে যাচ্ছেন। ইরাকের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কুর্দি নেতা হোসায়ের জেবারি বলেছেন, বাঁধের দখল পুনরুদ্ধারে তাদের যোদ্ধারা বড় ধরনের লড়াই করেছে। এখন তারা নিনেভে এলাকা থেকেও আইএস জঙ্গিদের উত্খাত করতে চান, যাতে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ও ইয়াজিদিরা আবার তাদের আবাসে ফিরে আসতে পারেন।