হতে পারতেন ডাক্তার। তার বাবা তেমনটাই চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ছেলেটি পড়তে ছোটেন অর্থনীতি। তখন অবশ্য তার বাবা জানতেন না ছেলেটি একদিন দেশের অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বাবা মনমোহন সিংহকে নিয়ে এমন নানা অজানা তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তারই কন্যা দামন সিংহ। ‘স্ট্রিক্টলি পার্সোনাল: মনমোহন অ্যান্ড গুরশরণ’ নামে রয়েছে গুরশরণ আর মনমোহনের জীবনের অন্য নানা মুহূর্ত। যাতে কখনও মনমোহনকে পাওয়া গিয়েছে মনোযোগী ছাত্র হিসেবে, কখনওবা মজার মানুষ হিসেবে।
১৯৪৮ সালের এপ্রিলে অমৃতসরের খালসা কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন মনমোহন। দামনের কথায়, “ওর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু কয়েক মাস পড়ার পরেই আমার বাবা সেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ডাক্তার হওয়ার উত্সাহ ছিল না ওর। বিজ্ঞান পড়তেই ভাল লাগছিল না।” ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিলেও মনমোহনের হাতে তখন ভাবনা-চিন্তার জন্য বেশি সময় ছিল না। তাই তড়িঘড়ি বাবার দোকানে কাজে যোগ দেন মনমোহন। কিন্তু দামন লিখেছেন, সেটাও ভাল লাগেনি বাবার। ওখানে আলতু-ফালতু কাজ করতে হত তাকে। ১৯৪৮-এর সেপ্টেম্বরে অর্থনীতি পড়ার জন্য ভর্তি হন হিন্দু কলেজে। অর্থনীতিতে যথেষ্ট উত্সাহ পেয়েছিলেন মনমোহন। দামনকে তিনি বলেছেন, “দারিদ্র্য বিষয়টা আমায় বরাবরই ভাবাত। কেন কিছু দেশ গরিব, কেন বাকিরা ধনী। আমাকে অনেকেই বলেছিল, একমাত্র অর্থনীতি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।” দেশের পড়াশোনার পাট চুকিয়ে অর্থনীতির ছাত্র এরপরে পাড়ি দেন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। - আনন্দবাজার পত্রিকা
