প্রথম ইনিংসে অবিশ্বাস্য বোলিং করে জয়ের ভীতটা গড়ে দিয়েছিলেন তিনিই। আর দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানি মিডলঅর্ডার ভেঙ্গে দিয়ে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন, জয় দিয়েই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে যাচ্ছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। কাল কলম্বো টেস্টের শেষ দিনের প্রথম সেশন শেষ হবার আগেই সফরকারীদের শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে লঙ্কানদের ১০৫ রানের জয় নিশ্চিত করলেন সেই রঙ্গনা হেরাথই। তাই টেস্টটা মাহেলা জয়াবর্ধনের বিদায়ী টেস্ট হলেও পরিসংখ্যানের দিক থেকে সেটা হয়ে থাকলো হেরাথের। ম্যাচে ১৪ উইকেট নেয়ার পথে এই বাঁহাতি স্পিনার ভেঙ্গে দিয়েছেন দুই টেস্টের সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে মুত্তিয়া মুরালিধরনের রেকর্ডও। কলম্বো টেস্টে ১৪ উইকেট, আর আগের ম্যাচে ৯টি। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ উইকেট শিকার করেন হেরাথ। দুই টেস্টের সিরিজে এর আগে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়ার কীর্তি ছিল তারই স্বদেশি মুরালিধরনের।
২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮.০৪ গড়ে ২২ উইকেট নিয়েছিলেন মুরালিধরন। আর হেরাথ ২৩ উইকেট নেন ১৫.১৩ গড়ে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কলম্বোতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ১৪ উইকেট নিতে ১৮৪ রান খরচ করেন হেরাথ। পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো বোলারের এটা দ্বিতীয় সেরা কীর্তি। এর আগে ১৯৯৯ সালে দিল্লিতে অনিল কুম্বলে ১৪৯ রানে নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। শ্রীলঙ্কার পক্ষেও এক টেস্টে এটি দ্বিতীয় সেরা বোলিং। এর আগে মুরালিধরন ১৯৯৮ সালে ওভালে ১৬ উইকেট নেন ২২০ রানে। শেষ তিন উইকেট হাতে নিয়ে ১৪৪ রানের লক্ষ্যে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান অল আউট হয়ে যায় আগের দিনের সাথে মাত্র ৩৮ রান যোগ করেই। ১০৫ রানের জয় পায় লঙ্কানরা। ফলে নিশ্চিত হয়ে যায় দুই ম্যাচে সিরিজে হোয়াইটওয়াশই হচ্ছে পাকিস্তান। তবে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু না পেলেও ব্যক্তিগতভাবে সিরিজটা স্মরণীয় হয়ে রইলো সরফরাজ আহমেদের। কাল দিন সিরিজে নিজের শেষ ইনিংসেও ৫৫ রান করেন তিনি। যেটি ছিল এই সিরিজের চার ইনিংসে একটি শতকসহ তার চতুর্থ ৫০ ছাড়ানো ইনিংস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজে সরফরাজের ইনিংস চারটি ৫৫, ৫২*, ১০৩ ও ৫৫ রানের।
