৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্যদিয়েই শুরু হবে ভর্তিযুদ্ধ। একে তো এই ইউনিটে সিট কম থাকায় সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় তার উপর গতবারের চাইতে সময় কম পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই ইউনিটের প্রতিযোগীরা একটু চাপেই রয়েছেন। আর এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে ইত্তেফাকের সাথে কথা বলেছেন গতবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিটে (বিবিএ) উত্তীর্ণ শীর্ষ তিন শিক্ষার্থী। জানাচ্ছেন— সামিউল ইসলাম শোভন
শুভধ্বনি পাল
ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়
দ্বিতীয় স্থান অধিকারী শুভধ্বনি পাল উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে ফাহিমের মতো তিনিও জানান, এখন পরীক্ষার শেষ সময়। তাই নতুন কিছু না পড়ে যা পড়া হয়েছে সেগুলোই ভালো করে ধরে রাখা উচিত। এসময় নতুন করে কিছু পড়তে গেলে আগের প্রস্তুতির ক্ষতি হবে। পরীক্ষার্থীদেরকে তিনি ইংরেজি এবং বাণিজ্য বিষয়ে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর উপর বিশেষভাবে জোর দিতে বলেন। তিনি আরও জানান, ‘গ’ ইউনিটে যারা অনেকটা এগিয়ে থাকতে চাই তাদেরকে ইংরেজি এবং হিসাব বিজ্ঞানের উপর জোর দিতেই হবে। পরীক্ষার হলে কোন কোন বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে শুভধ্বনি জানান, রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, সেটকোড ইত্যাদি এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খুব সাবধানে ভরাট করতে হবে পূর্ণ মনোযোগের সাথে। কারণ অনেক ভালো পরীক্ষা দিলেও যদি কোনভাবে এগুলোর একটা ভুল হয়ে যায় তাহলে এই একটা ভুলের কারণেই সব পরিশ্রম ভণ্ডুল হয়ে যাবে। পরীক্ষার্থীদের তিনি পরীক্ষার পুরোটা সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন। তার মতে, এই একটা ঘন্টায় জীবন বদলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
রায়হান ফাহিম
ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম
ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা রায়হান ফাহিম গতবারের ‘গ’ ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে অধ্যয়নরত। এবারের পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, এখন পরীক্ষার শেষ সময় তাই নতুন করে আর কিছু পড়ার নেই। এতদিন যা পড়া হয়েছে সেগুলোই ভালো করে রিভিশন করতে হবে। তবে প্রতিটা বিষয়ে আলাদাভাবে প্রস্তুতির জন্য কঠিন বিষয়গুলো এক সপ্তাহ ধরে নিয়ে পড়া উচিত। আর বিগত বছরের প্রশ্নগুলো এবং মডেলটেস্টগুলো ভালোভাবে সমাধান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং প্রশ্ন সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারণা পাবে। কোন বিষয়গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহিম জানান, সব বিষয়কেই গুরুত্ব দিতে হবে। তবে ইংরেজি এবং হিসাববিজ্ঞানের জন্য আলাদা করে ভেবে রাখা উচিত কারণ ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়া মানেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়া।
আফরিদা সুমাইয়া
ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়
এদিকে গতবছরে ‘গ’ ইউনিটে তৃতীয় স্থান অধিকার করা আফরিদা সুমাইয়া পড়ছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিষয় নিয়ে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ঢাকা সিটি কলেজ থেকে। নতুন পরীক্ষার্থীদেরকে তিনিও ইংরেজির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন। বিশেষ করে তিনি ইংরেজির ভোকাবুলারির উপর বেশি গুরুত্ব দেন। যেহেতু এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে, তাই হিসাববিজ্ঞানের থিওরি কম পড়ে অংক বেশি করার ব্যাপারে পরামর্শ দেন তিনি। ‘গ’ ইউনিটের ১২০ মার্কসের মধ্যে ৮০ মার্কস রয়েছে ফলাফলের উপর। তাই যারা ফলাফলের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছে তাদের কি করণীয় এমন প্রশ্নের উত্তরে সুমাইয়া জানান, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভালোভাবে প্রস্তুতিই চান্স পেতে সহায়তা করবে। প্রস্তুতি ভালো থাকলে ফলাফল খুব বেশি ভোগায় না। পরীক্ষার্থীদেরকে এই শেষ সময়টাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তবে মেধাবী এই তিন শিক্ষার্থীই পরীক্ষার আগের রাতে বেশি রাত না জাগতে এবং আত্মবিশ্বাসী হতে বলেন। তাদের মতে, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি যেমন জরুরি ঠিক তেমনি পরীক্ষার হলে একটু ঘাবড়িয়ে গেলেই সব মাটি। তাই আত্মবিশ্বাসটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
