প্রায় সবকয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। আবির ২০১৩-১৪ সেশনে রাবি বিবিএ (ডি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (ডি ইউনিটে) যারা ভর্তি হতে ইচ্ছুক তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরছেন— মো. আবির হোসেন
যা মনে রাখা দরকার
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সাধারণত আসে কি না। হ্যাঁ আসে, তবে পুরোপুরি মিল না থাকলেও একই ধাঁচের প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়। আর এটা ঢাবিতে কম থাকলেও চবি, রাবি, ইবিসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি পরিমাণে দেখা যায়। এজন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর সমন্বয়ে তৈরি প্রশ্ন ব্যাংকের সাহায্য নিতে পারো।
সাধারণত বিবিএ তে ভর্তি পরীক্ষা দিতে মোটামুটিভাবে চারটি বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। তবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানবণ্টন বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তে ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়, যাতে প্রশ্নের সংখ্যা ৮০ টি। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১.২৫। প্রতিটি ভুল প্রশ্নের জন্য ০.২৪ করে কেটে নেয়া হয়। ভর্তি পরীক্ষায় প্রস্তুতি নিতে শেষমুহূর্তে চারটি বিষয়ের উপর যেভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলা:বাংলা বিষয়ে দক্ষতা নিয়ে আসতে হলে তোমাকে অবশ্যই বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বোর্ড বই ভালভাবে পড়তে হবে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রশ্নই এখান থেকে করা হয়। বাংলা বিষয়টা যদিও শুধু ঢাবিতেই দরকার হয়। এখানে ২৫টি বাংলা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আর অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা আসে না বললেই চলে। ঢাবিতে বাংলা ১ম পত্র থেকে সাধারণত গল্প ও কবিতাগুলো থেকে ১০-১৩ টি এবং ২য় পত্র ব্যাকরণ ও অন্যান্য বিষয় থেকে বাকি প্রশ্নগুলো হয়ে থাকে। এতে ভাল করতে হলে তোমাকে অবশ্যই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে প্রচুর অধ্যয়ন করতে হবে।
ইংরেজি: বিবিএ পরীক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ইংরেজিতে আশানুরূপ নম্বর পাওয়া। কিন্তু আমি বলব যদি পড়াগুলো একটু বুঝে পড়তে পারো তবে অবশ্যই ইংরেজিতে ভাল করা সম্ভব। ইংরেজিতে সাধারণত যে বিষয়গুলোর উপর প্রশ্ন হয়ে থাকে সেগুলো হলো- Tense, Voice, Translation, Preparetion, Idioms and Phrases, Grop verb, Modal, Narretion, Degree of comparison, Synonym and antonym, Spelling mistakes, Conjunction, Parts of speech, Analogy, Miscellaneous ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর। এই বিষয়গুলো ভালভাবে পড়তে বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি ভাল কিছু লেখকের লেখা গ্রামার বইগুলো নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত একটা প্রশ্ন থেকে বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, যাতে ওই ধরনের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পার। তাহলে পড়াটা তোমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।
হিসাববিজ্ঞান: ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হিসাববিজ্ঞান। সুতরাং হিসাববিজ্ঞানে ভাল করার জন্য তোমাকে অবশ্যই মূল বিষয়গুলো ভালভাবে আয়ত্ত করতে হবে। আর গাণিতিক বিষয়গুলো এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো ভালভাবে বোঝার জন্য তুমি বাজারের একটা ভাল মানের বই অনুসরণ করতে পারো। গাণিতিক বিষয়গুলো এড়িয়ে যেও না। কারণ এমন কিছু প্রশ্ন দেখা যায় যেগুলো গণিত না, কিন্তু তারপরও সেগুলোর উত্তর দিতে গেলে তোমাকে অবশ্যই গাণিতিক বিষয়গুলোর প্রতি ভাল ধারণা থাকা দরকার। তবে হিসাববিজ্ঞান ভালভাবে বোঝার জন্য তুমি একজন ভাল শিক্ষকের শরণাপন্ন হতে পারো। এতে করে তুমি এর মূল বিষয়গুলো ও গাণিতিক সমস্যার যুক্তিপূর্ণ সমাধান পেতে পারো।
ব্যবস্থাপনা: বিবিএ ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবস্থাপনা। এই বিষয়টিকে ভাল করতে হলে বইয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয় যেমন- শেয়ারবাজার, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, সরকারি বিভিন্ন বিনিয়োগ, বার্ষিক বাজেট প্রভৃতি বিষয়গুলোতেও সমান দক্ষতা থাকতে হবে। আর এই সব বিষয়গুলো জানতে তোমাকে বিভিন্ন মাসিক সাময়িকীগুলো অনুসরণ করতে হবে। কারণ এই বিষয়গুলো পরিবর্তনশীল। সাম্প্রতিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা থাকলে ব্যবস্থাপনায় ভালো করা সম্ভব। আর এই বিষয়গুলো ভালভাবে আয়ত্ত করতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। মনে রাখবে, তুমি যতোবেশি পরিশ্রম করবে ততোবেশি জিনিস তুমি আয়ত্ত করতে পারবে। হতে পারবে রাবির বিবিএ ফ্যাকাল্টির গর্বিত শিক্ষার্থী।
