কুমিল্লায় সাত মাসে পঁচাত্তর খুন

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৫
কুমিল্লায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত জেলার ১৬ উপজেলায় ৭৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩শ’ ৬৮টি। এ সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন পুলিশের কমপক্ষে ২২ জন সদস্য। সোমবার জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় উপস্থাপিত অপরাধ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে ৩৪টি। অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৩শ’ ৮৫টি। ফেব্রুয়ারি মাসে খুন হয়েছে ৩টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩৪টি, অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৩শ’ ৬৯টি। মার্চ মাসে খুন হয়েছে ৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৮টি, অন্যান্য ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৯৮টি। এপ্রিলে খুন হয়েছে ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৭০টি, অন্যান্য ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫শ’ ৯২টি। মে মাসে খুনের ঘটনা ১২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৭৫টি, অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৫শ’ ৫৫টি। জুন মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫৫টি, অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৪শ’ ৮০টি এবং জুলাই মাসে খুনের ঘটনা ১০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৭২টি ও অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৫৬৫টি। অপরদিকে ১৬ উপজেলায় চুরি-ডাকাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পুলিশের পরিসংখ্যানে গত ৭ মাসে ডাকাতি মামলার রেকর্ড রয়েছে মাত্র ২২টি এবং দস্যুতা ও সিঁদেল চুরির মামলা ৭৩টি। সূত্র জানায়, অধিকাংশ চুরি-ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেন না। তাই এ ক্ষেত্রে প্রকৃত চিত্র আরো কয়েকগুণ বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে জানুয়ারিতে ৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ জন, মার্চে ৬ জন, এপ্রিলে ৪ জন, মে মাসে ২ জনসহ গত ৭ মাসে কমপক্ষে ২২ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত ৭ মাসে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড পারিবারিক, এলাকায় আধিপত্য, যৌতুক, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ঘটেছে। কুমিল্লায় বিশাল সীমান্ত এলাকা ও মহাসড়কের কারণে চোরাচালান, অপহরণ, হত্যা, দুর্ঘটনা, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কারণে জেলার ১৬ উপজেলায় হত্যা, অপমৃত্যু, দুর্ঘটনাসহ অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।