শিশু দাসত্ব নিরসনে চাই আইন

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৭
অবিলম্বে বাংলাদেশে শিশু দাসত্ব নিরসন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, আইএলও-এর ২০১২ সালের জরিপ হিসেবে সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন শিশু জোরপূর্বক শ্রমদানে ব্যবহূত হচ্ছে। এর শতকরা ৮৫ ভাগ শিশু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। ২০০৫ সাল থেকে এই জোরপূর্বক শ্রমদানে নিয়োজিত শিশুদের সংখ্যাটির কোন পরিবর্তন হয়নি। সমগ্র বিশ্বের লাখ লাখ শিশু যারা ভয়াবহ নির্যাতন ভোগ করছে তাদের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় পরিকল্পিত ও সম্মিলিত কর্মসূচির অভাবে অবিলম্বে বাংলাদেশে শিশু দাসত্ব নিরসন আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ বিষয়টি নিরসনে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শিশু দাসত্ব নিরসন’ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয় পর্ষদ-এর পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর’ ২০১৪ বিশ্বব্যাপী শিশু দাসত্ব নিরসন সপ্তাহ উদ্্যাপন করা হবে। বাংলাদেশ এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অপরাজেয়-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানুকে চেয়ারপার্সন করে একটি জাতীয় পর্ষদ গঠন করেছে। এই জাতীয় পর্ষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সিভিল সোসাইটি সৃজনশীল ব্যক্তিবর্গ, জাতীয় ও আঞ্চলিক শিশু, নারী ও মানবাধিকার অধিকার বিষয়ক সংগঠন, পর্ষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিশু দাসত্ব নিরসন সপ্তাহ উদ্যাপনে কাজ করবে। পরবর্তীতে বছরব্যাপী এই প্রচারাভিযানের সকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অসংখ্য শিশু পরিবারের দারিদ্র্যতা ও অসহায়ত্বের পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বিভিন্ন কল-কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বাসা-বাড়ী, গার্মেন্টস ও জামদানী পল্লী, মত্স্য ঘের, চরের শুটকির কাজসহ অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যুক্ত হয়ে আধুনিক দাসত্বে পরিণত হয়েছে। এই শিশুরা পথশিশু ও পাচারের পণ্যে পরিণত হচ্ছে। এই শিশুরা মাদকাসক্তে আসক্ত হচ্ছে, পতিতালয়ে ও গৃহকর্মে সেবাদাসে পরিণত হচ্ছে। যা প্রকারন্তে আধুনিক দাসত্বমূলক পর্যায়ে উপনীত করেছে। বাংলাদেশে মূলতঃ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কলহ বা পিতা-মাতার অনুপস্থিতি, মৃত্যু বা অন্যত্র বিবাহের এসব কারণে এই শিশুর দাসত্বের পরিস্থিতির মূল কারণ। অপরাজেয়-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও বিশ্বব্যাপী শিশু দাসত্ব নিরসন সপ্তাহ উদ্্যাপন-২০১৪ বাংলাদেশ জাতীয় পর্ষদ এর চেয়ারপার্সন ওয়াহিদা বানুর সভাপতিত্বে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, যিনি এই কর্মসূচির সেলিব্রেটি এ্যাম্বেসেডর হিসেবে কাজ করবেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার হেলাল ফয়েজি, কলামিস্ট সালেহ আহম্মেদ টিটো, চিত্রশিল্পী মো. মনিরুজ্জামান, পর্ষদের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন।