অভিনয়ের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে লাক্সসুন্দরী মিমের মনে। তাই ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করতেই পছন্দ করেন। শুধু অভিনয় নয়, মডেলিংয়েও তার পারফর্মেন্স সবার নজর কাড়ে। প্রতিভাময়ী এই অভিনেত্রীর অভিনয়ের নানা গল্প নিয়ে আমাদের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ
বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় ২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন মিম। তখন একবারও ভাবেননি, বিজয়িনীর মুকুটটি তার মাথাতেই উঠবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল দারুণ একটা চমক। বিদ্যা সিনহা মিম ডাক্তার না হতে পারলেও এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিণত হয়েছেন মিডিয়ার তারকায়। সেই থেকে দর্শকদের ভালোবাসার মাঝে তিনি শুধু বেড়েই ওঠেননি, হয়ে উঠেছেন দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী। গতানুগতিক নায়িকা চরিত্রের মাঝে নিজেকে কখনোই বন্দী করতে চাননি লাক্সসুন্দরী মিম। তার ভাষ্যে, ‘আমি লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে এসেছি বলে অনেকে হয়তো ধরে নিয়েছিলেন, অন্য কারো কারো মতো আমিও গতানুগতিক নায়িকা চরিত্রগুলোতে কাজ করব। কিন্তু তা না করে আমি একটু ভিন্ন পথে হেঁটেছি। আমি সব সময় সেই সব চরিত্রে কাজ করেছি, যেখানে আমার অভিনয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমার মনে হয় আমি কিছুটা হলেও পেরেছি।’ মিম অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘বনলতা সেন’, ‘কোনো এক প্রেমিক’, ‘আমাদের ফলো করুন’, ‘বাদলা দিনে’, ‘পরী কিংবা তার বাবার গল্প’, ‘তবুও তুমি আমার’, ‘ছেলেটি ঢাকা এসেছিল’, ‘যান্ত্রিক ভালোবাসা’, ‘এমনি বিএস’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘অলসপুর’, ‘উত্তরাধিকার, ‘টো টো কোম্পানি’ প্রভৃতি। এর মধ্যে আকরাম খানের পরিচালিত ‘বনলতা সেন’ নাটকে মিমের অনবদ্য অভিনয় সবার নজর কেড়েছিল। বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজের প্রতি মিমের ঝোঁকটা বরাবরই একটু কম। তবে এই লাক্সতারকা যে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন, প্রায় সবগুলোর জন্যই ভালো সাড়া পেয়েছেন। তার দর্শক সমাদৃত বিজ্ঞাপনগুলো হচ্ছে তিব্বত ক্রিম, তিব্বত লিপজেল, কেয়া বিউটি সোপ, প্রাণ আপ ইত্যাদি। প্রয়াত জননন্দিত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মিম রুপালি পর্দায় নাম লেখান। বাণিজ্যিক ধারার এ ছবিতে তার নায়ক ছিলেন ফেরদৌস। তবে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে। মিম অভিনীত এই ছবির ‘কী জাদু করেছ বলো না’ গানটি এখনো শ্রোতাপ্রিয়। মাঝে মিম গ্রামীণ ফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করে দর্শকের বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। শুধু তাই নয় বিজ্ঞাপনটিতে দ্বৈত চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় সবার মাঝে বেশ আলোচনারও সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ ফোনের এই বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন পিপলু খান। এরআগে মিম ‘আপন ডায়মন্ড জুয়েলারি’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন। মিম বর্তমানে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এগুলো হলো—তন্ময় তানসেনের পরিচালনায় ‘পদ্ম পাতার জল’, অনন্য মামুনের ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও ইমপ্রেস প্রযোজিত তানিয়া আহমেদের পরিচালিত ‘গুডমর্নিং লন্ডন’। চলতি বছরেই ছবিগুলো মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সেই সাথে তার কাছে আরও কয়েকটি নতুন চলচ্চিত্রের অফার রয়েছে। মিম অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হচ্ছে ‘তারকাঁটা’। এটি পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। নিজের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘চলচ্চিত্রে সাফল্য আসলে ভাগ্যের ব্যাপার। তবে আমি লাকি যে, আমার আগের দুটি ছবিই ব্যবসা সফল হয়েছে। এখন প্রতিনিয়ত চলচ্চিত্রের অফার আসে। বেছে বেছে ছবির কাজ করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই ভালো কিছু ছবির মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে একটা স্থায়িত্ব আনতে পারব।’
