পপ সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। অল্প বয়স থেকেই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই সংগীত তারকা পেয়েছেন আকাশচুম্বী সাফল্য ও স্বীকৃতি। আশপাশের অন্যসব বড় বড় শিল্পীদের সরিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন সংগীতের অঙ্গনে। সম্প্রতি আবারও তিনি উঠে এসেছেন জরিপের শীর্ষে তবে এবার হারিয়ে যাওয়া শিল্পীদের তালিকায়। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
১৯৯৯ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’ ব্রিটনি স্পিয়ার্সকে এনে দেয় বিশ্ব খ্যাতি। অ্যালবামের এই গানটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে হিট গানের তালিকায় প্রথম স্থান করে নেয়। ‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’ অ্যালবামের পর থেকেই তার সংগীত জীবনে আসে বাঁধ ভাঙা সাফল্য। প্রথম অ্যালবামের সাফল্যের পর খুব বেশি সময় নেননি তিনি তার পরবর্তী অ্যালবাম সামনে নিয়ে আসতে। তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘আই ডিড ইট অ্যাগেন’ পায় প্রায় সমান খ্যাতি। এই দুটি অ্যালবামের মধ্য দিয়ে ব্রিটনি সংগীত জগতে হয়ে ওঠেন এক ‘পপ আইকন’।
ব্রিটনি জিন স্পিয়ার্সের জন্ম ১৯৮১ সালের ২ ডিসেম্বর, আমেরিকার মিসিসিপি রাজ্যের ম্যাককম্ব শহরে। তিন বছর বয়স থেকেই নৃত্য ও সংগীতে তালিম নেন তিনি। ১০ বছর বয়সে প্রতিভা প্রতিযোগিতা ‘স্টার সার্চ’-এ অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১১ বছর বয়সে বিখ্যাত টেলিভিশন ডিজনি চ্যানেলে তিনি শিশু অনুষ্ঠান ‘মিকি মাউস ক্লাব’-এর উপস্থাপিকারও সুযোগ পান।
১৯৯৭ সালে ব্রিটনি যোগ দেন মেয়েদের ব্যান্ড ‘ইনোসেন্স’-এ। তার পরের বছর তিনি চুক্তিবদ্ধ হন জিভ রেকর্ড কোম্পানির সঙ্গে। এরপর ১৯৯৯ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে বের হয় তার প্রথম অসাধারণ সফল অ্যালবাম। এ পর্যন্ত এই অ্যালবাম বিক্রির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ। বেস্ট সেলার তরুণ নারী শিল্পী হিসেবে সংগীত জগতে এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন তিনি।
বেশ কিছু ছায়াছবিতেও অভিনয় করেছেন ব্রিটনি। গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজক হিসেবেও তিনি পেয়েছেন স্বীকৃতি। এ পর্যন্ত মোট ৭টি অ্যালবাম বেরিয়েছে তার। যার ১০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বিশ্বব্যাপী। ‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’-এ তার নামের তারকা রয়েছে। গ্র্যামি, এমি, একো এবং ওয়ার্ল্ড মিউজিক ছাড়াও আরও বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ‘পপ রাজকুমারী’ ব্রিটনি স্পিয়ার্স।
সম্প্রতি জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুগল প্লাসে সবচেয়ে বেশি অনুসারীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জনপ্রিয় পপ গায়িকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। গুগল প্লাসে ব্রিটনির ভক্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই সাত লাখ ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে গুগলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেইজ সাত লাখ ৪২ হাজার ৫০০ অনুসারী নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। ব্রিটনি স্পিয়ার্স শুধু যে গুগল প্লাসেই জনপ্রিয় তা নয়, মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটারেও রয়েছে তার এক কোটি ১৩ লাখ অনুসারী। ফলে কিছুদিন আগেই লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, কেটি পেরি ও কিম কারদাশিয়ানের পরেই টুইটারে শীর্ষ পাঁচ অনুসারীর তালিকায় ছিলেন ব্রিটনি। কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরে সংগীত জগতে তার অনুপস্থিতি তার ভক্তদের মনেও সৃষ্টি করেছে হতাশার। এবার মনে হয় তিনি আর ফিরবেন না। তবে অনেকে আবার মনে করছেন যে, এই বছর না হোক পরের বছর তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে হাজির হবেন নতুন গান অথবা নতুন
অ্যালবাম নিয়ে।
