কুমিল্লায় ৫০ হাজার গরু মোটা-তাজাকরণ হচ্ছে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৪
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার ছোট-বড় ১৫৩টি ফার্ম ও কৃষক পর্যায়ের ৮শতাধিক পরিবারে মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়ায় আছে ৫০ হাজার গরু। গো-ঘরে এক অবস্থানে বেঁধে রেখে কৃমিনাশক ঔষধ, ভিটামিন ইনজেকশন ও উন্নতমানের খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। জেলার অনেক বেকার যুবক সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বছরের ৩-৬ মাস গরু মোটা-তাজাকরণ চালিয়ে আসছে। জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৯ লক্ষ ১০ হাজার ৩৫৩টি গরু রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ছোট-বড় প্রায় ২ লক্ষ ৮৫হাজার ৯৪৬টি ষাঢ় ও বলদ রয়েছে। ওই ষাঁড় ও বলদগুলো ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৭৩টি গরু কোরবানি ঈদ উপলক্ষে লালন-পালন করলেও মোটা-তাজাকরণ প্রক্রিয়ায় ১৫৩টি খামারে প্রায় ২৮ হাজার ৫শ ৯৫টি গরু এবং কৃষক পর্যায়ে প্রায় ২০ সহস্রাধিক গরু আগামী কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পালন করা হচ্ছে। বাকি প্রায় ৯৩ হাজার গরু স্বাভাবিক পদ্ধতিতে লালন-পালন হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার ১৫৩টি ফার্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চান্দিনা উপজেলার চান্দিয়ারা গ্রামের আব্দুর রব কাউন্সিলরের ফার্ম, একই উপজেলার খিরাসার-মুইরারা গ্রামে হাজী মিলন ফার্ম, কুমিল্লার চক বাজার এলাকার সুমন ফার্মসহ চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় আরও কয়েকটি ফার্ম রয়েছে। তবে পুরো জেলায় ক্ষুদ্র খামারী রয়েছে প্রায় শতাধিক। এব্যাপারে খামারী আব্দুর রব কাউন্সিলর জানান, আমরা নিজের টাকায় ব্যবসা করি। গরু কেনার পর এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে অনেক সময় বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ডাক্তার দেখাতেও সরকারি কোন সহযোগিতা পাই না। পশু ডাক্তার খবর দিয়ে ফার্মে নিলে তাকে কমপক্ষে ৫শ টাকা দিতে হয়, না দিলে তারা যায় না। এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা পবীত্র কুমার সাহা জানান, গরু মোটা-তাজাকরণ প্রক্রিয়া যদি স্বীকৃত পদ্ধতি করে থাকে তাহলে তা মানব দেহের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু যদি কেউ অসদুপায়ে এ প্রক্রিয়া করে তা পশুর দেহের এমনকি মানব দেহেরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।