সদরপুর উপজেলার গিয়াসউদ্দিন ফকিরকান্দি গ্রামে আড়িয়াল খাঁর ৩ দিনের ভাঙ্গনে দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর প্রবল ভাঙ্গনে গাছপালা ও প্রায় ২শ’ একর ফসলের মাঠ নদীগর্ভে চলে গেছে। ইউএনও মো. মাহবুব হাসান শাহীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন আফিসার কাজী লিয়াকত হোসেন ও চরমারইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম গত শনিবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউএনও ক্ষতিগ্রস্তদের সকল ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আড়িয়াল খাঁর ভাঙ্গনে উক্ত ইউনিয়নের চরকান্দি, কাজী কান্দি, রাম কুমার মণ্ডলের কান্দি ও দুর্বারচর গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পৌঁছায়নি।
ভুরুঙ্গামারীর দুধকুমর নদের ভাঙ্গনে ১টি স্কুল ও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন
ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, ভুরুঙ্গামারীতে দুধকুমর নদের ভাঙ্গনে তিন দিনে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সোনাহাট ইউনিয়নের ভরতের ছড়া গ্রামে ভরতের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদসহ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এছাড়া পাইকের ছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা ও পাইকডাঙ্গা গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
ইউএনও এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব জানান, উপজেলায় বন্যার্ত ও ভাঙ্গনকবলিত মানুষের জন্য ১০ মে. টন চাল এবং ১০ হাজার টাকা সাহায্য পাওয়া গেছে এবং তা পাঁচটি ইউনিয়নে বণ্টন করা হয়েছে।
দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।
এ পর্যন্ত ফিলিপনগর গ্রামের শতাধিক পরিবার গৃহহারা ও ২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চাঁইপাড়া জামে মসজিদ হুমকির মুখে রয়েছে।
এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহযোগিতা ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পৌঁছায়নি। গৃহহারা পরিবারগুলো অন্যের জমিতে আশ্রয় গ্রহণ করলেও অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নঈম উদ্দীন সেন্টু জানান, এলাকায় ত্রাণ সাহায্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইউএনও শামীমূল হক পাভেল জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
