বিশ্বব্যাপী তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহার করে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে মাইক্রোসফট প্রতিবছর আয়োজন করে থাকে ইমাজিন কাপ। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই বছরের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ৩৪টি দলের প্রকল্প থেকে বেছে নেওয়া হয় সেরা সব প্রকল্প। ইমাজিন কাপের এবারের আসরের বিজয়ী কয়েকটি প্রকল্পের কথা এই লেখায় তুলে ধরেছেন মোজাহেদুল ইসলাম
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ
ইমাজিক কাপে এবারেই চালু করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ক্যাটাগরি। ইমাজিন কাপের তিনটি ক্যাটাগরির প্রতিটির প্রথম স্থান অধিকারীদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপকে বলা যায় সার্বিকভাবে ইমাজিন কাপের গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন। এই ক্যাটাগরিতে এবারে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আইনেমিয়া দল। ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ কম্পিটিশন ক্যাটাগরিতে এই দলটি বিচারকদের রায়ে সেরা হয়েছে। পরে অন্য দুই ক্যাটাগরির সাথে বিজয়ীদেরও হারিয়ে দিয়ে সার্বিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আইনেমিয়া। স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা রোগ নির্ণয়ের সুযোগ করে দিয়েছে আইনেমিয়া দলটি। এটি মূলত কনজাংটিভা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনা পরিমাপ করে থাকে। ফলে হাতের মুঠোয় এই রোগের সম্ভাবনা পরিমাপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ কম্পিটিশন
স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ক্যাটাগরি ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ কম্পিটিশন। এই ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েই ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিয়েছে আইনেমিয়া। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে তাইওয়ানের দল স্মার্ট ক্রু। স্ট্রোক করা রোগীদের মনিটরিং এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রদানসহ সেবা প্রদানের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে স্মার্ট ক্রু।
এই ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছে আয়ারল্যান্ডের দল অ্যাকসেস আর্থ। সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় এমন পৃথিবী গড়ার জন্যই কাজ করেছে অ্যাকসেস আর্থ। কোনো একটি স্থানে যে কেউ ভ্রমণ করতে গেলে সেই স্থান সম্পর্কিত যত ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তার সবকিছুকেই তারা তুলে ধরেছে তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে।
ইনোভেশন কম্পিটিশন
সোস্যাল নেটওয়ার্ক, মিউজিক, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি, গ্যাজেট, রোবটিক প্রভৃতি নিয়ে তরুণদের আগ্রহ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই ইনোভেশন কম্পিটিশন ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান পাওয়া দলের নাম এসটিমিট। নিউজিল্যান্ডের এই দলটি মূলত বন্ধুদের সাথে সবসময়ের জন্য সংযুক্ত থাকার একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, এই অ্যাপ্লিকেশন আপনার বন্ধুদের কে কোথায় রয়েছে তার খবর সার্বক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেবে।
এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় দলটির নাম টেপ। হাঙ্গেরির এই দলটি তৈরি করেছে একটি ফিটনেস অ্যাপ্লিকেশন। এটি ফিটনেস সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ট্র্যাক করার সাথে সাথে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করতে উত্সাহিতও করে থাকে। আলাদা আলাদা করে একে কাস্টমাইজ করার সুযোগও রয়েছে।
এই ক্যাটাগরির তৃতীয় স্থান পাওয়া দলের নাম বাটারফ্লাই। বাহরাইনের এই দলটি তাদের প্রকল্পকে সফটওয়্যারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, হার্ডওয়্যারও যুক্ত করেছে। এর অ্যাপ্লিকেশনটি যেকোনো সময় নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের নেইলপলিশ তৈরির সুযোগ দেবে। সেইসাথে নেইলপলিশ আঙুলে ব্যবহারের সুযোগও দেবে। নেইলপলিশের সাথে গ্লিটার ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে বাহরাইনের মেয়েদের তৈরি এই প্রকল্পে।
গেমস কম্পিটিশন
কম্পিউটারের বাইরে এসে এখন মোবাইলসহ যেকোনো ডিভাইসেই গেমিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেই লক্ষ্যেই গেমিং নিয়ে রয়েছে ইমাজিন কাপের এই ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান পাওয়া দলের নাম ব্রেইনি স্টুডিও। রাশিয়ার এই দলটি যে গেমটি তৈরি করেছে, তাতে মূলত একটি শহরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান করতে হয়। এই গেমে রয়েছে বিভিন্ন গেমিং মোড।
গেমিংয়ে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া দলটির নাম বমন। কোরিয়ার দলটি যে গেম তৈরি করেছে তার মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে জুডি নামের একটি মেয়ে। তাকে এই গেমে তার মোজা থেকে বিদ্যুত্ তৈরি করতে হয়। আর এই গেমের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীকে ধুলামুক্ত রাখা।
গেমিং ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে মিশরের ইলজিক দলটি। তাদের তৈরি গেমটি মূলত একটি পাজল গেম। এই গেমে একটি কুকুর ছানা হারিয়ে যায় একটি বাবলের মধ্যে। তাকে তার মূল স্থানে ফিরিয়ে আসাকে নিয়েই গেমটি পরিচালিত হয়।
