‘আমরা লম্বরেও ভিজি, ঘরেও ভিজি’

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২০:৫১
‘বৃষ্টির সময়ে চা বাগানের লম্বরে (টিলা) ভিজি, আবার ভাঙাচুরা ঘরেও ভিজি। বউ, বাচ্চা, গরু-ছাগল নিয়া একঘরে থাকি। বহুত কষ্টে চলতে আছি, বাবু।’ ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগানের ৭৫ বছরের নারী শ্রমিক বালিয়া রবিদাস। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সা, বাসস্থানসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত চা শ্রমিকরা এক ঘরে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সকালে এক কাপ লাল চায়ের সাথে দুইটি রুটি খেয়ে কাজে বের হন। চা পাতা, আলু, শুঁটকি, মরিচ দিয়ে চাটনী তৈরি করে দু’টি রুটি দিয়েই দুপুরের খাবার সারেন। রাতে জুটে একমুঠো ভাত। তাতেও সপ্তাহে একদিন মাছের দেখা পাওয়া দুরূহ। পাতি তুলতে গিয়ে বিছা ও জোকের কামড়, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হয়। দৈনিক সর্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা। ৮ থেকে ১০ সদস্যের এক পরিবারের সংসার চালাতে হয় এ আয় দিয়ে। হাড্ডিসার নারী শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ৭০ বছর বয়সী নারী চা শ্রমিক বাছিয়া রবিদাস বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে দুধ খাইয়া পেট ভরি গেছে। এখন খাইবার পাই না। এখন পাই লবণ, আটার রুটি আর লাল চা। ব্রিটিশ আমলে সবাইকে সমান রেশন ও তলব (মজুরি) দিয়া গেছে মালিক। আর এখন জমিনেরও খাজনা কাটিয়া রাখে। বহুত দুঃখে আছি আমরা বাগানি মানুষ।’ রবিদাস বলেন, পরিবারে ৫ জন সদস্য। একজন চা বাগানে কাজ করে। বাকি সবাই বেকার। এভাবে পরিবারের একজনের নাম থাকলে অন্যরা বেকার থাকে। চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বিন বলেন, সামান্য আয় দিয়ে চা শ্রমিকদের জীবনধারণ খুবই কষ্টকর। সরকার ও মালিক পক্ষ বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে মজুরি নির্ধারণ ও বেকারত্ব দূর করলে চা বাগান শ্রমিকদের কিছুটা হলেও উপকারে আসবে।