ব্যতিক্রমী চিত্র প্রদর্শনী

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৪
‘এ পৃথিবীতে তোমার অবদান কতটুকু’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে ধানমন্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে। যাদের কথা সচরাচর বলা হয় না। যে সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনাগুলো দীর্ঘদিন এক রকম রয়ে গেছে। সেসব মানুষের মনের কথাগুলোই তুলে আনা হয়েছে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে। উদ্দেশ্য সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়া। শুক্রবার বিকালে আর্টিস্ট, সঙ্গীতশিল্পী নিয়ে ঢাকা সোশাল আর্ট ফেস্টিভাল শুরু হয়। এখানে স্থান পেয়েছে চুড়ি বিক্রেতা, যাদুকর, রিকশাওয়ালা, সমকামী, বৃদ্ধ, মেথর ও ঘরহীন মানুষদের যাপিত জীবনের না বলা কথা। এই মানুষদের ভাবনা বদলাতে ও তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনার একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন প্রদর্শনীর আর্টিস্টরা। প্রদর্শনীর আগে দীর্ঘ তিনমাস ঢাকায় নানান সামাজিক বিষয় নিয়ে একটি কর্মশালা পরিচালিত হয়। দি ফেইক্টরী আর্ট স্টুডিও এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্টেইন ক্রো ও আর্টিস্ট রোনাল্ড মের্কেস্টেইন এই কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। রোনাল্ড মের্কেস্টেইন বলেন, আমরা সব আর্টিস্টরা মিলে যা করি তা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, আর্ট আমরা কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করি না, এমনকি কোনো লাভের জন্যও করি না, বরং এটি আমাদের জন্য জীবনকে বুঝে উঠার একটি উপায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুমন বলেন, প্রদর্শনীটি দেখার ও এ সম্পর্কে জানার পর এটি নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব আপনার উপরও বর্তায়। সব না বলা গল্পগুলো বলার জন্যই প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশি আর্টিস্টের একটি দল নিয়ে ঢাকা আর্ট সেন্টারে কাজ করেন। যখন তারা প্রকল্পটি শুরু করেছিল তখন তাদের মধ্যে পুরো অবস্থাটি সম্পর্কে একটি নিজস্ব ধারণা ছিল। এরপর তারা এই মানুষদের সাথে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে, তাদের ছবি এঁকেছে। সবকিছুর পর তাদের আগের ধারণাগুলোও পাল্টে গেছে। যে মানুষদের সাথে শিল্পীরা কাজ করেছে তাদের মধ্যেও অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিল্পীরা পেইন্টিং, ইন্সটলেশন, ড্রয়িং, ফটোগ্রাফি, মূর্তি আর গল্প নিয়ে কাজ করেছেন। এই দলটিতে ছিল পেইন্টার, ফটোগ্রাফার, লেখক ও গ্রাফিক ডিজাইনার। তারা তাদের আর্টকে আরও গভীরস্তরে নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, একটি প্রশ্ন নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন ‘এ পৃথিবীতে তোমার অবদান কতটুকু?’। শিল্পী তৃনা বলেন, এই প্রক্রিয়াটি আমাকে চুড়ি বিক্রেতাদের অনেক কাছ থেকে জানতে সাহায্য করেছে, আমি এখন তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি। এটি আমাকে অনেক পরিবর্তন করেছে, আমি চাই সবার মধ্যেও এই পরিবর্তনটা আসুক, তাদের দেখ এবং তাদের সাথে একটি যোগসূত্র তৈরি করুন। প্রদর্শনী বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত।