জামানতবিহীন ঋণ পাবেন দশ টাকার হিসাবধারীরা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৬
১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীরা যাতে সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে পারেন সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উত্স থেকে ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। এখন এসব হিসাবধারী সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে অথবা এমআরএ’র অনুমোদনপ্রাপ্ত এমএফআই’র মাধ্যমে এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এ ঋণ সুবিধা হবে সম্পূর্ণ জামানতবিহীন; তাদের পেশাগত দক্ষতা ও কায়িক শ্রমের মানসিকতাই হচ্ছে মূল জামানত। পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৩২টি ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে স্বল্পআয়ের মানুষ ১০ টাকায় হিসাব খুলে শুধু টাকা জমা রাখাই নয়, ব্যবসায়িক কাজে ঋণও নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে প্রাথমিকভাবে ১০টি ব্যাংক এই ঋণ কার্যক্রম চালাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ আওতায় আসবে। এবিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং এন্ড সিএসআর বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে ওই ১০ ব্যাংক। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী, সিএসআর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ১০টাকা হিসাবধারীদের জন্য ২০০ কোটি টাকা তহবিল থেকে ৩২টি ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম চালাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এক্ষেত্রে তারা মোট ১৩৯ কোটি টাকা ব্যবহার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ১০টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড এই পাঁচটি রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের বাকি প্াঁচটি হলো: পূবালী, এনসিসি, স্ট্যান্ডার্ড, ব্র্যাক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। চুক্তিকারী এই ১০টি ব্যাংক তহবিলের মোট ১১০ কোটি টাকা ব্যবহার করবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা নামমাত্র এ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টধারীরা আর্থিক সেবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে উঠছে। অর্থনীতির জন্য এটাকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।