বাংলাদেশের শিশু চিকিত্সার পথিকৃত্ জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান কম মূল্যে ক্যান্সার নিরাময় ওষুধ বাজারজাতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যান্সার আক্রান্তরা যেন সুলভমূল্যে ওষুধ ক্রয় করতে পারে সেজন্য ওষুধ উত্পাদকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কমমূল্যে ওষুধ বাজারজাত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে ক্যান্সার চিকিত্সার মানোন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আরো বেশি মানসম্মত ক্যান্সার সেন্টার বা হাসপাতাল তৈরি আহ্বান জানান।
শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্যান্সার কংগ্রেসে-২০১৪’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের আঞ্চলিক ফোরাম ‘সার্ক ফেডারেশন অব অনকোলজিস্টের (এসএফও) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার অনকোলজি ক্লাব এই কনফারেন্সের আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক দেশি ও বিদেশি চিকিত্সক অংশ নেন।
অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, ক্যান্সার আক্রান্তরা যেন ওষুধপত্র ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে এই জন্য ফার্মাসিউটিক্যালসগুলোকে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ক্যান্সার ওষুধ ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ কম মূল্য রাখে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী চিকিত্সকরা জানান, দেশে রেজিস্ট্রিকৃত ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তালিকাভুক্ত না থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এছাড়া দেশের প্রতি বছর নতুন করে প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার আক্রান্তদের শতকরা ৬০ ভাগই চিকিত্সা সেবার বাইরে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী জনসংখ্যা হিসেবে বাংলাদেশে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ক্যান্সার হাসপাতাল বা সেবাদান কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০ টি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি।
বাংলাদেশ অনকোলজি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এম এ হাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অনকোলজি ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হাফিজুর রহমান আনসারী, বাংলাদেশ ক্যান্সার কংগ্রেস ২০১৪’র আয়োজক কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ও অনকোলজি ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. এম এম শরিফুল আলম প্রম?ুখ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিত্সার বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞকে অনকোলজি ক্লাবের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- প্রফেসর এমিরেটাস ডা. এ বিএম ফজলুর করীম (মরণোত্তর), প্রফেসর এস এফ হক (মরণোত্তর) এবং প্রফেসর এম এন হুদা। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের তরুণ ক্যান্সার গবেষক শাহনাজ পারভিন ও আব্দুল্লাহ আল আমীন তাদের গবেষণার জন্য এসএফ হক মেডেল পান। এখন থেকে প্রতি বছরই এই পদক প্রদান চালু থাকবে। এছাড়া প্রতি বছর এমএফও কনফারেন্সের প্রতিটি স্বাগতিক দেশের তরুণ অনকোলজিস্ট গবেষকের জন্য অনকোলজী ক্লাবের পক্ষ থেকে এবিএম ফজলুল করীম মেডেল ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মেলনের সাইন্টিফিক কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ও অনকোলজি ক্লাবের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক ডা. এ এফ এম কামাল উদ্দীন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবারও বৈজ্ঞানিক সেমিনার, প্যানেল আলোচনা ও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ সম্মেলন শেষ হবে।
