যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেয়ার সময় চীনের একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে বাধা দেয়। এসময় চীনের বিমানটি ১০ মিটারের মধ্যে চলে আসায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের হাইনান দ্বীপের পূর্বে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেয়ার সময় চীনের একটি যুদ্ধবিমান এসে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। চীনের পাইলটের এই কর্মকাণ্ডকে অনিরাপদ ও অপেশাদার বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চের পর চতুর্থবারের মত এ ধরনের ঘটনা ঘটল। তবে চীন এব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি রিয়ার এডমিরাল জন কিরবি এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। চীনা যুদ্ধবিমানটি ৩ বার মার্কিন টহল বিমানটির একেবারে কাছে চলে আসে এবং কখনো সামনে, কখনও পেছনে, কখনও পাশাপাশি চলতে থাকে। এসময় চীনা বিমানটি অস্ত্র তাক করার ভঙ্গি করে। জন কিরবি বলেন, চীনের এ ধরনের অনিরাপদ ও অপেশাদার হস্তক্ষেপে আমরা উদ্বিগ্ন। এটি বিমানের পাইলটকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চীনের সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রায়ই এধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চীন জানিয়েছে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ অপ্রত্যাশিতভাবে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হয়। অল্পের জন্য সেসময় দু’টি জাহাজের ধাক্কা লাগেনি। এ ঘটনার কিছদিন আগে চীন পূর্ব চীন সাগরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চল ঘোষণা করে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণাকে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের একটি পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করে। ২০০১ সালে চীনের একটি যুদ্ধবিমানের সাথে ধাক্কা লাগে মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের। এতে চীনা পাইলটের মৃত্যু ঘটে।
