লোককাহিনী ও ঐতিহ্যনির্ভর নাট্যোত্সব শুরু

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৩
বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন লেখকের গল্প, কবিতা ও উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে এবং দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার স্থানীয় লোককাহিনী ও ঐতিহ্যের উপর বিভিন্ন কাহিনী অবলম্বনে গতকাল থেকে শিল্পকলা একাডেমীতে শুরু হয়েছে আট দিনব্যাপী নাট্যোত্সব। দেশের ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদলের এই সাহিত্য-নির্ভর প্রযোজনার নাটক নিয়ে নাট্য আয়োজনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস, বিশ্ব আইটিআই সভাপতি রামেন্দু মজুমদার ও আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ। উদ্বোধনী আলোচনা শেষে একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হয় বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল চাঁদপুরের পরিবেশনায় নাটক ‘আমরা তিনজন’ এবং রাত ৯টায় মঞ্চস্থ হয় কবি নিজাম গজনবীর কাব্য অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল মুন্সীগঞ্জের পরিবেশনায় নাটক ‘লাইলী মজনু’। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে রাত ৮টায় সংগৃহীত লোক কাহিনী অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল লালমনিরহাটের পরিবেশনায় নাটক ‘বাঁশের বাঁশি’ এবং রাত ৯টায় গৌর কিশোর ঘোষ-এর গল্প অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল ময়মনসিংহের পরিবেশনায় নাটক ‘সাগিনা মাহাতো’ মঞ্চস্থ হয়। একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হয় নৃত্যনাট্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল মৌলভীবাজারের পরিবেশনায় নাটক ‘কালমৃগয়া’ এবং রাত ৯টায় হাসান আজিজুল হক-এর গল্প অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশনায় নাটক ‘হেমাপ্যাথি এ্যালাপ্যাথি’ ও একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হয় আবুল মনসুর আহমদ-এর রিলিফ ওয়ার্ক গল্প অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল চুয়াডাঙ্গার পরিবেশনায় নাটক ‘হরিলুট’ এবং সনজ কু্ল-এর ‘ভাঙ্গনের শব্দ শুনি’ উপন্যাস অবলম্বনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী নাট্যদল গোপালগঞ্জের পরিবেশনায় নাটক ‘নাশলীলা’। বেঙ্গলে যশোরের শিল্পীদের পরিবেশনায় উচ্চাঙ্গ সংগীত সন্ধ্যা ‘ধ্রুপদশৈলী’ বাংলার লোকসাহিত্যে যশোর জেলার গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে। বাউল, জারি, গাজির গান, মানিক পীরের গান এ মাটি থেকেই উত্সারিত। শিবের গীত, বালাকি, বারাসে গানসহ লঘুসংগীতের চারণভূমি যশোর। পদাবলি কীর্তনকে যারা সারা বাংলায় জনপ্রিয় করেছিলেন তাদের অন্যতম মধুসূদন কিন্নর যশোরের সন্তান। গতকাল শনিবার বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছিল যশোর জেলার শিল্পীদের উচ্চাঙ্গ সংগীত সন্ধ্যা ‘ধ্রুপদশৈলী’। অনুষ্ঠানে ধ্রুপদ, প্রবন্ধগান, খেয়াল, ধামার, ঠুমরী ও দাদরা পরিবেশন করেন যশোর জেলার সুরধুনী সংগীত বিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা। স্বর্ণালী দে, মাইমুনা নাসরিন, মৌমিতা বড়াল, মনিকা দেবনাথ এবং সংগীত শিক্ষক অর্দ্ধেন্দুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে যশোরের শিল্পীরা সম্মেলক গান বাগেশ্রী রাগে ধ্রুপদ গেয়ে শোনান, দ্বিতীয়ত স্বর্ণালী দে (৭টি রাগের সমন্বয়ে যথাক্রমে সারং, মধুমাধবী সারং, বড়হংস সারং, সামন্ত সারং, বৃন্দাবনী সারং, মিয়াকী সারং ও লংকাদহন সারং) প্রবন্ধগান পরিবেশন করেন। এরপর যথাক্রমে মৌমিতা বড়াল (বাহার রাগে ধামার), মাইমুনা নাসরিন (মিয়াকি মল্লার রাগে খেয়াল), অর্দ্ধেন্দুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় (দেশ রাগে খেয়াল) এবং সবশেষে মনিকা দেবনাথ “মোরা সাঈয়া বোলাভে আধিরাতে” ঠুমরী ও “শামভাই মনওয়া একেলি ডরলাগে” দাদরা পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করেন। তবলা সংগত করেন স্বপন ঘোষ, হারমোনিয়ামে আসাদুজ্জামান বাবর।