সাম্প্র্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে উখিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি এর ফলে অর্ধশতাধিক গ্রামীণ সড়ক লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এলজিইডি, কাবিখা, টিআর ও সংসদ সদস্যের অতিরিক্ত বরাদ্দের তহবিলে নির্মিত অধিকাংশ কালভার্ট, ফুটব্রিজের সাথে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এসব এলাকার শত শত মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম টেম্পো, টমটম ও সিএনজি চলাচল করতে না পারায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন রাজাপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সলিং করা সড়কের ইট উপড়ে গিয়ে খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটব্রিজ ও কালভার্টের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। যার ফলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অপূরণীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলা সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এখানে বসবাসরত প্রায় হাজারেরও অধিক উপজাতি পরিবারের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে স্থানীয় চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পালংখালী ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি স্থানীয় খালগুলো দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রত্নাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া, ভালুকিয়া, চাকবৈঠা, ডাকবাংলো মরিচ্যা পাতাবাড়ী সড়ক, আমতলী ও পাতাবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সড়কসহ কোটবাজার ভালুকিয়া সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় চেয়ারম্যান নূরুল কবির চৌধুরী ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ উপজেলা পরিষদে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে জানান। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, সাম্প্র্রতিক সময়ের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তার এলাকার ১৮টি গ্রামীণ সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ জনপদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ছাড়াও এলজিইডির মাধ্যমে ঐসব সড়কগুলোর কার্পেটিং করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
